ঢাকা ০৮:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

টার্গেট কিলিংয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক: নির্বাচনি মাঠে নিরাপত্তার অভাবে উদ্বিগ্ন প্রার্থীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা ‘টার্গেট কিলিং’ এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সম্ভাব্য প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর শঙ্কা বিরাজ করছে।

বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকারী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর পল্টনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর অনেক প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বেসরকারি ‘গানম্যান’ নিয়োগের কথা ভাবছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৪ দিনের অভিযানে ১৫ হাজার ৯ জন গ্রেপ্তার এবং ২১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এই ক্র্যাকডাউন চলাকালেও রাজধানীর কাওরান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির এবং পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী খুনের শিকার হয়েছেন। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম, যশোর ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যা জনমনে স্বস্তি ফেরার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামসহ অনেক প্রার্থীই বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের প্রত্যাশিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না।

অন্যদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৩ হাজার ৫০৯ জন খুনের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৭১০ জন দুর্ধর্ষ অপরাধী এবং লুণ্ঠিত ১,৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়া নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

আইজিপি বাহারুল আলম দাবি করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ধরনের নাশকতা ও হত্যাকাণ্ড আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

টার্গেট কিলিংয়ে জনমনে চরম আতঙ্ক: নির্বাচনি মাঠে নিরাপত্তার অভাবে উদ্বিগ্ন প্রার্থীরা

আপডেট সময় : ১১:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা ‘টার্গেট কিলিং’ এবং অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে সম্ভাব্য প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গভীর শঙ্কা বিরাজ করছে।

বিশেষ করে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণাকারী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে রাজধানীর পল্টনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার পর অনেক প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বেসরকারি ‘গানম্যান’ নিয়োগের কথা ভাবছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৪ দিনের অভিযানে ১৫ হাজার ৯ জন গ্রেপ্তার এবং ২১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এই ক্র্যাকডাউন চলাকালেও রাজধানীর কাওরান বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বির এবং পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী খুনের শিকার হয়েছেন। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম, যশোর ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন জেলায় অন্তত ৮ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যা জনমনে স্বস্তি ফেরার পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামসহ অনেক প্রার্থীই বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের প্রত্যাশিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না।

অন্যদিকে, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৩ হাজার ৫০৯ জন খুনের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ৭১০ জন দুর্ধর্ষ অপরাধী এবং লুণ্ঠিত ১,৩৩৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়া নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

আইজিপি বাহারুল আলম দাবি করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই ধরনের নাশকতা ও হত্যাকাণ্ড আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।