ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দমন-পীড়ন এবং হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ইরানি জনগণের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারসম্মত ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতি প্রকাশ্যে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার ক্যানবেরায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অ্যালবানিজ বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরানি জনগণ একটি স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে এবং অস্ট্রেলিয়া তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ইরানি জনগণ নিজেরাই বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এই সরকার নিজ দেশের জনগণের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, জনগণই শেষ পর্যন্ত তাদের ক্ষমতা থেকে অপসারণ করবে।”
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ইরান সরকার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য নাগরিকদের হত্যা করছে, যা তাদের শাসনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তার মতে, “যে সরকার কর্তৃত্ব বজায় রাখতে নিজের জনগণকে হত্যা করে, সেই সরকারের কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক বৈধতা থাকতে পারে না।” পেনি ওং আরও জানান যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই ইরানি নেতৃত্বকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তিনি বিশ্ব নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে ইরান সরকারকে অবিলম্বে জনগণের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর ইরান বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সম্মুখীন। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয় এবং দেশের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করে রাস্তায় নেমেছেন। এই পরিস্থিতিতে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন যে, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত।
রিপোর্টারের নাম 























