ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রপ্তানিমুখী শিল্পে স্বস্তি: ৪৩ পণ্যে প্রণোদনা বহাল, আরও ৬ মাস সুবিধা

দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার আরও ছয় মাসের জন্য ৪৩টি পণ্য খাতে বিদ্যমান রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা আগের হারেই কার্যকর থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল রাখতে সরকার বর্তমানে ৪৩টি পণ্য খাতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান হারেই প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। পণ্যভেদে এই প্রণোদনা দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে। এলডিসি পরবর্তী সময়ে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দফায় প্রণোদনার হার কমানো হয়েছিল এবং এবারও কমানোর সম্ভাবনা ছিল। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত শুল্ক, ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আকস্মিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে শিল্প খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে রপ্তানিমুখী শিল্প মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার নগদ সহায়তা অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের বিকল্প হিসেবে দেড় শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল থাকছে। ইউরো অঞ্চলের বস্ত্র খাতে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা হিসেবে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। নিট, ওভেন, সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সহায়তা পাবে। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা ২ শতাংশ এবং তৈরি পোশাকের বিশেষ নগদ সহায়তা শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ, পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্যে ৫ শতাংশ এবং পাটের সুতায় ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা মিলবে। চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ এবং ফিনিশড ও ক্রাস্ট লেদারে ৬ শতাংশ প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ এবং হালাল মাংসে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের হার অনুযায়ী ৪ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য মাছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ শতাংশ ও সর্বনিম্ন দেড় শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং আলু ও হালকা প্রকৌশল খাতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা অপরিবর্তিত থাকছে।

আগের মতোই ৬ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবে মোটরসাইকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য, রেজার ও রেজার ব্লেড, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ এবং প্লাস্টিক দ্রব্য। এছাড়া, হাতে তৈরি পণ্য যেমন – হোগলা, খড়, আখ বা নারকেলের ছোবড়া, দেশে উৎপাদিত কাগজ, গার্মেন্টের ঝুট, গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি, শিং ও রগ, কাঁকড়া-কুঁচিয়াতেও ৬ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে।

ফার্নিচার, সিনথেটিক ও ফেব্রিক্সের মিশ্রণে তৈরি পাদুকা ও ব্যাগ, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন ও জুট পার্টিকেল বোর্ড, শস্য ও শাকসবজির বীজ, আগর ও আতরে ৮ শতাংশ নগদ সহায়তা থাকবে। সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যারে ৬ শতাংশ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের সফটওয়্যার ও আইটিএসে আড়াই শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষায়িত অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত থাকছে। দেশে উৎপাদিত চা, এমএস স্টিলে ২ শতাংশ; চাল, বাইসাইকেল ও এর পার্টস এবং সিমেন্টে ৩ শতাংশ; কেমিক্যাল পণ্যে ৫ শতাংশ এবং টুপিতে ৭ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

রপ্তানিমুখী শিল্পে স্বস্তি: ৪৩ পণ্যে প্রণোদনা বহাল, আরও ৬ মাস সুবিধা

আপডেট সময় : ০৮:৩১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার আরও ছয় মাসের জন্য ৪৩টি পণ্য খাতে বিদ্যমান রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে এই সুবিধা আগের হারেই কার্যকর থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল রাখতে সরকার বর্তমানে ৪৩টি পণ্য খাতে প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাহাজীকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান হারেই প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে। পণ্যভেদে এই প্রণোদনা দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে। এলডিসি পরবর্তী সময়ে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তুতি হিসেবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দফায় প্রণোদনার হার কমানো হয়েছিল এবং এবারও কমানোর সম্ভাবনা ছিল। তবে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত শুল্ক, ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ২০২৪ সালের আগস্টে আকস্মিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে শিল্প খাতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে রপ্তানিমুখী শিল্প মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার নগদ সহায়তা অপরিবর্তিত রাখার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের বিকল্প হিসেবে দেড় শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল থাকছে। ইউরো অঞ্চলের বস্ত্র খাতে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা হিসেবে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। নিট, ওভেন, সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সহায়তা পাবে। বস্ত্র খাতে নতুন পণ্য বা নতুন বাজার সম্প্রসারণ সুবিধা ২ শতাংশ এবং তৈরি পোশাকের বিশেষ নগদ সহায়তা শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, বৈচিত্র্যপূর্ণ পাটপণ্যে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ, পাটজাত চূড়ান্ত দ্রব্যে ৫ শতাংশ এবং পাটের সুতায় ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা মিলবে। চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতে ১০ শতাংশ এবং ফিনিশড ও ক্রাস্ট লেদারে ৬ শতাংশ প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে। ওষুধের কাঁচামালে ৫ শতাংশ এবং হালাল মাংসে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানির ক্ষেত্রে বরফ আচ্ছাদনের হার অনুযায়ী ৪ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য মাছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ শতাংশ ও সর্বনিম্ন দেড় শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য এবং আলু ও হালকা প্রকৌশল খাতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা অপরিবর্তিত থাকছে।

আগের মতোই ৬ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাবে মোটরসাইকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য, রেজার ও রেজার ব্লেড, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস, পেট বোতল ফ্লেক্স, জাহাজ এবং প্লাস্টিক দ্রব্য। এছাড়া, হাতে তৈরি পণ্য যেমন – হোগলা, খড়, আখ বা নারকেলের ছোবড়া, দেশে উৎপাদিত কাগজ, গার্মেন্টের ঝুট, গরু-মহিষের নাড়িভুঁড়ি, শিং ও রগ, কাঁকড়া-কুঁচিয়াতেও ৬ শতাংশ প্রণোদনা থাকছে।

ফার্নিচার, সিনথেটিক ও ফেব্রিক্সের মিশ্রণে তৈরি পাদুকা ও ব্যাগ, পাটকাঠি থেকে উৎপাদিত কার্বন ও জুট পার্টিকেল বোর্ড, শস্য ও শাকসবজির বীজ, আগর ও আতরে ৮ শতাংশ নগদ সহায়তা থাকবে। সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যারে ৬ শতাংশ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের সফটওয়্যার ও আইটিএসে আড়াই শতাংশ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষায়িত অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত থাকছে। দেশে উৎপাদিত চা, এমএস স্টিলে ২ শতাংশ; চাল, বাইসাইকেল ও এর পার্টস এবং সিমেন্টে ৩ শতাংশ; কেমিক্যাল পণ্যে ৫ শতাংশ এবং টুপিতে ৭ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে।