ইলোন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্স পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ঐতিহাসিক ঘটনায় কোম্পানির বর্তমান ও সাবেক হাজার হাজার কর্মী বিপুল সম্পদের মালিক হতে চলেছেন। যাদের মধ্যে ৪,৪০০ জনেরও বেশি কর্মী এই আইপিও-র মাধ্যমে কোটিপতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।
১১ বছর আগে কলেজ শেষ করে ট্রেভর হাইসের বাবা-মা চেয়েছিলেন তিনি জেনারেল ইলেকট্রিকের মতো একটি স্থিতিশীল প্রতিষ্ঠানে যোগ দিন। কিন্তু হাইস বেছে নিয়েছিলেন ইলোন মাস্কের নতুন স্টার্ট-আপ স্পেসএক্সে যোগ দেওয়া। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। বর্তমানে ৩৭ বছর বয়সী এই সাবেক স্পেসএক্স লঞ্চ ইঞ্জিনিয়ারের কাছে কোম্পানির ১ লাখের বেশি শেয়ার রয়েছে। চলতি সপ্তাহে স্পেসএক্স প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলারে পুঁজিবাজারে (আইপিও) আসছে। এর ফলে হাইসের শেয়ারের মূল্য দাঁড়াবে অন্তত ১ কোটি ৩৫ লাখ ডলারে।
স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে আসার এই প্রক্রিয়া নানা রেকর্ড তৈরি করছে। এটি বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলোন মাস্কের সবচেয়ে প্রভাবশালী মহাকাশ সংস্থার এযাবৎকালের বৃহত্তম আইপিও। প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজার মূল্যায়নের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে অভিষেক হতে যাওয়া এই কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লে তা বিপুল সম্পদের সৃষ্টি করবে, যা জেনারেল ইলেকট্রিকের বাজার মূলধনের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি।
এই আইপিওর মাধ্যমে স্পেসএক্সের বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মীরা তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া বিপুল সম্পদের মালিক হতে যাচ্ছেন। কোম্পানিটির বর্তমানে ২২ হাজার কর্মী রয়েছে এবং গত কয়েক বছরে আরও শত শত কর্মী চাকরি ছেড়েছেন। সান ফ্রান্সিসকো-ভিত্তিক বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম হিল ডটকমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্পেসএক্সের ৪,৪০০-এর বেশি বর্তমান ও সাবেক কর্মী এই আইপিওর মাধ্যমে কোটিপতি হতে চলেছেন। এদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন কর্মী ১০ কোটি ডলার বা তার বেশি সম্পদের মালিক হবেন।
হিল ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু বেনসন বলেন, সাধারণত আইপিওতে কেবল প্রতিষ্ঠাতাদেরই বিলিয়নেয়ার হতে দেখা যায়। ৪০০ জনের এই স্তরে পৌঁছানোটা অস্বাভাবিক। এটি এখানে তৈরি হওয়া বিপুল সম্পদেরই প্রমাণ দেয়। স্পেসএক্সের প্রাক্তন কর্মীদের মধ্যে ৪২ বছর বয়সী গ্যাভিন পেটিট ২০১২ সালে প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ওই সময় তার ৮০ হাজার ডলার বেতনের পাশাপাশি কয়েক হাজার শেয়ার দেওয়া হয়েছিল, যার প্রতিটির দাম ছিল ১৩.৮০ ডলার। বছরের পর বছর ধরে তিনি বোনাসের বদলে শেয়ার নেওয়া বেছে নেন, যা রকেটের পরীক্ষামূলক ব্যর্থতার কারণে ওই সময় ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তিনি ২০১৩ সালে স্পেসএক্স ছাড়েন এবং বর্তমানে তার কাছে ৫০ হাজারের বেশি শেয়ার রয়েছে। তবে সব কর্মী তাদের শেয়ার ধরে রাখেননি। অনেকে ভেবেছিলেন কোম্পানিটি কখনোই পুঁজিবাজারে যাবে না, কারণ ইলন মাস্কের অন্যান্য অনেক স্টার্ট-আপের মতোই এটিও বিভিন্ন সময়ে অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























