ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মোসাব্বির হত্যার তদন্ত কোন পথে

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে (৪৪) গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর মধ্যে একজন মূল সমন্বয়কারী, একজন শুটার, একজন হত্যাকারীদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী এবং বাকিজন হত্যার আগের দিন করা রেকিকারি। হত্যায় অংশ নেওয়া আরেক শুট্যারকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি, কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তাও নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।

পুলিশ বলছে, হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হবে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শুট্যার জিন্নাত (২৪), সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির (২৮) ও রেকিকারী মো. রিয়াজ (৩১)।

গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার কিছু সময় পর তেজতুরী বাজারের হোটেল সুপারস্টারের পাশের আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মোসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা ও তেজগাঁও থানার ভ্যান-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ (৪০) গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে যাচাই-বাছাই শেষে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মাসুদকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব সদ্য প্রয়াত মোসাব্বির পশ্চিম কাওরান বাজারের গার্ডেন ভিউ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী রয়েছেন। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান।

এ ঘটনায় গত ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে, নির্দিষ্ট করে কারও নাম ছিল না মামলায়। পরে মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্তকরণ, গ্রেফতার ও হত্যার মোটিভ উদঘাটনে কাজ শুরু করে ডিবি। তাদের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে ডিবির একাধিক আভিযানিক দল গত ১০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও ছয় হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করছে ডিবি। এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান এবং সেগুলো জব্দে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়িতে গুলিতে যুবক নিহত: জামায়াত কর্মীর পরিচয় দাবি, থমথমে জনপদ, মেলেনি মামলা

মোসাব্বির হত্যার তদন্ত কোন পথে

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে (৪৪) গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর মধ্যে একজন মূল সমন্বয়কারী, একজন শুটার, একজন হত্যাকারীদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী এবং বাকিজন হত্যার আগের দিন করা রেকিকারি। হত্যায় অংশ নেওয়া আরেক শুট্যারকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি, কি কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তাও নিশ্চিত করতে পারেনি তারা।

পুলিশ বলছে, হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র জব্দ করা হবে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, শুট্যার জিন্নাত (২৪), সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, আসামিদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির (২৮) ও রেকিকারী মো. রিয়াজ (৩১)।

গত ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার কিছু সময় পর তেজতুরী বাজারের হোটেল সুপারস্টারের পাশের আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মোসাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ সময় স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা ও তেজগাঁও থানার ভ্যান-শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদ (৪০) গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন মোসাব্বিরকে উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে যাচাই-বাছাই শেষে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মাসুদকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব সদ্য প্রয়াত মোসাব্বির পশ্চিম কাওরান বাজারের গার্ডেন ভিউ এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী রয়েছেন। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান।

এ ঘটনায় গত ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে, নির্দিষ্ট করে কারও নাম ছিল না মামলায়। পরে মামলাটি নিবিড় তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

জানা যায়, ঘটনার পরপরই জড়িতদের শনাক্তকরণ, গ্রেফতার ও হত্যার মোটিভ উদঘাটনে কাজ শুরু করে ডিবি। তাদের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। পরবর্তীতে ডিবির একাধিক আভিযানিক দল গত ১০ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও ছয় হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করছে ডিবি। এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের উৎস অনুসন্ধান এবং সেগুলো জব্দে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।