মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মহান স্মরণে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলাকে আগামী বছর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা পেশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মরণে আমরা প্রতিবছর সগৌরবে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করি। এই দিবসটি এখন কেবল বাংলাদেশের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার ধারক হিসেবে আজকের এই বাংলা একাডেমি এবং এর আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা আমাদের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।” তিনি আরও বলেন, “সময়ের দাবি এবং বিশ্বায়নের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, আগামী বছরগুলোতে অমর একুশে বইমেলাকে একটি আন্তর্জাতিক বইমেলা হিসেবে আয়োজনের সুযোগ রয়েছে কিনা, তা আপনারা সকলে ভেবে দেখবেন বলে আমি অনুরোধ জানাচ্ছি।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক বইমেলার সুফল তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, এই উদ্যোগ বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের পরিচিতি বাড়াবে, পাশাপাশি বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি নাগরিকদের আগ্রহ সৃষ্টি করবে। বর্তমান বিশ্বায়িত যুগে, মাতৃভাষা ছাড়াও একাধিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন ও জ্ঞান লাভ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি ও সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন অপরিহার্য। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও মেধার সর্বাঙ্গীণ উৎকর্ষ সাধনের বিকল্প নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
এই প্রসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায়ের জন্য এখনই কাজ শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
—
রিপোর্টারের নাম 





















