‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন করে প্রকাশিত সংশোধনী গেজেট অনুযায়ী, আগে ঘোষিত ফলাফলের চেয়ে মোট ভোটদাতার সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ জন কমেছে। একই সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ উভয় পক্ষেই ভোটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অতিরিক্ত গেজেটের মাধ্যমে এই সংশোধনী তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই গণভোটের প্রাথমিক ফলাফল ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল।
সংশোধিত গেজেটের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি, যা আগের চেয়ে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬০টি কম। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৩টি কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টিতে। ফলে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ মিলিয়ে বৈধ ভোটের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
হিসাব অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোট এবং বৈধ ভোটের সংখ্যা কমলেও বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। প্রথম গেজেটে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি থাকলেও সংশোধিত গেজেটে তা ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টিতে। সব মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করা হয়। এই সনদের প্রতি এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনসম্মতি যাচাই করতেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশন এই বড় ধরনের পরিসংখ্যানগত পরিবর্তনের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ না করলেও জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত ও আদেশক্রমেই এই সংশোধনী গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এই গণভোটের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক বৈধতা ও জনসম্মতি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 





















