মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৬:১২ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

৬৬৪ কোটি টাকায় রাশিয়া, মরক্কো ও সৌদি থেকে সার কিনছে সরকার

  • হালনাগাদ সময় : ০৩:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

রাশিয়া, মরক্কো এবং সৌদি আরব থেকে মোট এক লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সার আমদানিতে মোট খরচ হবে ৬৬৪ কোটি ৪০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪০ টাকা। এর মধ্যে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির (সিসিএ) বৈঠকে এই সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, বরগুনায় ১০ হাজার মেট্রিক টন সার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বাফার গোডাউন নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাবটিও অনুমোদন পেয়েছে। কমিটির সভাপতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমতি দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ১১টি লটে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া এবং আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আরও ৩ লাখ টনসহ মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টন ৪১৩.৩৩ ডলার। সেই হিসাবে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনতে খরচ হবে ১ কোটি ২৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ১৫১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৬০ টাকা।

একই বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডিএপি সার আমদানির চুক্তি নবায়ন করা হয় গত ২ জুলাই। এই চুক্তি নবায়নের আগে নীতিগতভাবে সিসিএ সভায় এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে, ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে ২ কোটি ৯৪ লাখ ১৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে কেনা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬০ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা।

এছাড়াও, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকনোমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

জানা গেছে, বিএডিসি কর্তৃক রাশিয়া থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমওপি সার আমদানির জন্য বিদ্যমান চুক্তির শর্তগুলো অভিন্ন রেখে গত ২৪ জুলাই চুক্তিটি পুনরায় নবায়ন করা হয়। এর আগে সিসিএ সভায় নীতিগতভাবে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে, জেএসসি ফরেন ইকনোমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলারে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫২ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অধীনে বরগুনা জেলায় একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজেরও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

এ প্রকল্পের আওতায় বরগুনায় একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে।

এর মধ্যে মাত্র একটি প্রস্তাব আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বা যোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি (টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন কমিটি)-এর সুপারিশে একমাত্র যোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এমবিএল ও আরএফএল-এর কাছ থেকে ৫১ কোটি ৭৩ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৫ টাকায় বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

৬৬৪ কোটি টাকায় রাশিয়া, মরক্কো ও সৌদি থেকে সার কিনছে সরকার

হালনাগাদ সময় : ০৩:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

রাশিয়া, মরক্কো এবং সৌদি আরব থেকে মোট এক লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সার আমদানিতে মোট খরচ হবে ৬৬৪ কোটি ৪০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪০ টাকা। এর মধ্যে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৪০ হাজার টন ডিএপি এবং ৩৫ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির (সিসিএ) বৈঠকে এই সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে, বরগুনায় ১০ হাজার মেট্রিক টন সার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি বাফার গোডাউন নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাবটিও অনুমোদন পেয়েছে। কমিটির সভাপতি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ভার্চুয়ালি এই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠক সূত্র অনুযায়ী, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমতি দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ১১টি লটে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া এবং আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আরও ৩ লাখ টনসহ মোট ৬ লাখ ৩০ হাজার টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি টন ৪১৩.৩৩ ডলার। সেই হিসাবে ৩০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কিনতে খরচ হবে ১ কোটি ২৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ১৫১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৬০ টাকা।

একই বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডিএপি সার আমদানির চুক্তি নবায়ন করা হয় গত ২ জুলাই। এই চুক্তি নবায়নের আগে নীতিগতভাবে সিসিএ সভায় এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে, ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে ২ কোটি ৯৪ লাখ ১৩ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারে কেনা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৬০ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা।

এছাড়াও, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকনোমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

জানা গেছে, বিএডিসি কর্তৃক রাশিয়া থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এমওপি সার আমদানির জন্য বিদ্যমান চুক্তির শর্তগুলো অভিন্ন রেখে গত ২৪ জুলাই চুক্তিটি পুনরায় নবায়ন করা হয়। এর আগে সিসিএ সভায় নীতিগতভাবে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে, জেএসসি ফরেন ইকনোমিক করপোরেশন থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে মোট ১ কোটি ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০ মার্কিন ডলারে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৫২ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

এদিকে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অধীনে বরগুনা জেলায় একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজেরও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

এ প্রকল্পের আওতায় বরগুনায় একটি বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে।

এর মধ্যে মাত্র একটি প্রস্তাব আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বা যোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি (টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন কমিটি)-এর সুপারিশে একমাত্র যোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এমবিএল ও আরএফএল-এর কাছ থেকে ৫১ কোটি ৭৩ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৫ টাকায় বাফার গুদাম নির্মাণের পূর্ত কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Share this news as a Photo Card