দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থিতা নিয়ে চলা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে তার দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পর মান্না তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অভিযোগ করেছেন, তাকে নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য এক ধরনের ‘কূটকৌশল’ করা হয়েছে, যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য ‘অশুভ ইঙ্গিত’ বহন করে।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসি’র এই সিদ্ধান্তের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য ভুলত্রুটি সংশোধন করা, কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া নয়। আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রে কোনো ত্রুটি থাকলে তা তাৎক্ষণিক বা নির্দিষ্ট সময় দিয়ে সংশোধনের সুযোগ থাকে। এমনকি হলফনামায় সামান্য ভুল থাকলেও সম্পূরক হলফনামা জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে মান্না অভিযোগ করেন, তার প্রার্থিতা ঘিরে এক ধরনের ‘মবোক্রেসি’ বা জনরোষ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি সামাল দিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছিলেন, অন্যথায় তার মনোনয়নপত্র বাতিলের কোনো কারণ ছিল না।
গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে ব্যঙ্গ করার মতো ঘটনা ঘটলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে এ ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের পথকে কখনোই সুগম করতে পারে না। দল বা ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন, বৃহত্তর সমাজের কাছে সবাই ছোট—এই মানসিকতা ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তার বিরুদ্ধে আনা ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ দাবি করে মান্না জানান, ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার এক কর্মকর্তা একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করেছিলেন। বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে জানানোর পর ওই কর্মকর্তাকে শাস্তিমূলকভাবে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ ও বদলি করা হয়। তবে এই তথ্য গণমাধ্যমে আসেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম উল্লেখ না করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কাউকে ‘কোমরের নিচে আঘাত করে’ হারানোর চেষ্টা সুস্থ রাজনীতি নয়। তিনি বিশ্বাস করেন, ষড়যন্ত্র করে সাময়িক জয় পাওয়া গেলেও গণতন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ে ষড়যন্ত্র টিকে না। আজকের ইসির রায় তারই প্রমাণ বলেও তিনি দাবি করেন।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে মান্না বলেন, ইসি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। প্রতিপক্ষকে বাদ দিয়ে বিজয়ী হওয়ার মানসিকতা গণতন্ত্রকে রুদ্ধ করে। তবে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মান্নার ভাষ্যমতে, পুলিশ এখনও সক্রিয় বা প্রোঅ্যাকটিভ ভূমিকা রাখছে না এবং অনেক জায়গায় তাদের নীরবতা লক্ষণীয়।
বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও তাদের মনোনীত প্রার্থী এখনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি, তবে তিনি আশা করেন, যেহেতু তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানানো হয়েছিল, তাই তাদের প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার করাই স্বাভাবিক নিয়ম হবে।
রিপোর্টারের নাম 























