ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নাকের সামান্য অপারেশনে মৃত্যু: ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ঢাকার কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোমে নাকের একটি সাধারণ অস্ত্রোপচারে মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুদ্দোহা শিমুলের বিতর্কিত মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেন।

শিমুলের স্ত্রী সায়মা সুলতানার দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশনা দেন। রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত ও মো. শাহেদ খান ইয়াকুব। শুনানিকালে ‘মিনিস্টার–মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকের মৃত্যু: ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলা’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রতিবেদন আদালতে সংযুক্ত করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২১ আগস্ট। সেদিন শিমুলের ভাগনে রিয়াজ ইসলাম ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে ঢাকার কলাবাগান থানায় দুজন চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালের চিকিৎসক জাহীর আল আমিন, ইফতেখারুল কাওছার, হাসপাতালের চেয়ারম্যান কবির আহামেদ ভূঁইয়া এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সামিয়া ইসলাম।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বিকেলে নাকের হাড় বেড়ে যাওয়া–সংক্রান্ত একটি ছোট সমস্যা নিয়ে সামসুদ্দোহা কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালে চিকিৎসক জাহীর আল আমিনের অধীনে ভর্তি হন। ওই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে নাকের হাড় অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে রাত সোয়া একটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সামসুদ্দোহা মারা গেছেন।

পরিবারের দাবি, সামসুদ্দোহা শিমুল সম্পূর্ণ সুস্থ ও সবল একজন মানুষ ছিলেন। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন এবং তার অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল না। এমনকি অস্ত্রোপচার কক্ষে যাওয়ার আগেও তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসিমুখে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন।

শিমুলের স্ত্রী সায়মা সুলতানা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী একজন সুস্থ–সবল মানুষ ছিলেন। একটি সামান্য অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তাকে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।” হাইকোর্টের এই রুল বিচারপ্রত্যাশী পরিবারটির জন্য একটি নতুন আশার আলো বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ

নাকের সামান্য অপারেশনে মৃত্যু: ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

আপডেট সময় : ০৪:১১:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকার কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোমে নাকের একটি সাধারণ অস্ত্রোপচারে মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মো. সামসুদ্দোহা শিমুলের বিতর্কিত মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রুল জারি করেন।

শিমুলের স্ত্রী সায়মা সুলতানার দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এই নির্দেশনা দেন। রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অমিত দাশ গুপ্ত ও মো. শাহেদ খান ইয়াকুব। শুনানিকালে ‘মিনিস্টার–মাইওয়ান গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকের মৃত্যু: ভুল চিকিৎসার অভিযোগে মামলা’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রতিবেদন আদালতে সংযুক্ত করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২১ আগস্ট। সেদিন শিমুলের ভাগনে রিয়াজ ইসলাম ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে ঢাকার কলাবাগান থানায় দুজন চিকিৎসকসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন—কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালের চিকিৎসক জাহীর আল আমিন, ইফতেখারুল কাওছার, হাসপাতালের চেয়ারম্যান কবির আহামেদ ভূঁইয়া এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সামিয়া ইসলাম।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট বিকেলে নাকের হাড় বেড়ে যাওয়া–সংক্রান্ত একটি ছোট সমস্যা নিয়ে সামসুদ্দোহা কমফোর্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও নার্সিং হোম হাসপাতালে চিকিৎসক জাহীর আল আমিনের অধীনে ভর্তি হন। ওই দিন রাত সোয়া ১১টার দিকে তাকে নাকের হাড় অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে রাত সোয়া একটার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সামসুদ্দোহা মারা গেছেন।

পরিবারের দাবি, সামসুদ্দোহা শিমুল সম্পূর্ণ সুস্থ ও সবল একজন মানুষ ছিলেন। তিনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন এবং তার অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা ছিল না। এমনকি অস্ত্রোপচার কক্ষে যাওয়ার আগেও তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসিমুখে স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন।

শিমুলের স্ত্রী সায়মা সুলতানা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার স্বামী একজন সুস্থ–সবল মানুষ ছিলেন। একটি সামান্য অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে তাকে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করি।” হাইকোর্টের এই রুল বিচারপ্রত্যাশী পরিবারটির জন্য একটি নতুন আশার আলো বলে মনে করা হচ্ছে।