গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত ও সামরিক শাসনের অধীনে থাকা মিয়ানমারে আজ (রবিবার) সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে কম ভোটার উপস্থিতি এবং ব্যাপক সমালোচনার মুখে এই ভোটগ্রহণকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে, সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টিতেই জয়লাভ করে। তবে ওই ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা ২০১৫ ও ২০২০ সালের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমার বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি মন্তব্য করেছেন, “প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং বিরোধী দলকে দমনের জন্য আইন প্রণয়ন ইউএসডিপিকে বিপুল ব্যবধানে জয়ের পথে নিয়ে গেছে।”
অন্যদিকে, মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নির্বাচনের প্রথম ধাপকে সফল দাবি করে বলেছেন, “ব্যাপক সংখ্যক ভোট গ্রহণ প্রমাণ করে যে জনগণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী।”
মোট ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে ২৬৫টিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যার মধ্যে কিছু এলাকা এখনও পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই। আগামী ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। সামরিক শাসকরা দাবি করছেন, এই নির্বাচন দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সামরিক নিয়ন্ত্রিত এই সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের পর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত। ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) প্রধান বিরোধী দলগুলোকে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু বা গ্রহণযোগ্য নয়। সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৬ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ৩৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা মিয়ানমারের মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























