সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিদের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদেশগুলো। গত ডিসেম্বর মাসে মার্কিন সেনাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার তীব্র প্রতিশোধ হিসেবে ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ আরও জোরদার করার অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলায় ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নির্ভুল অস্ত্র (precision weapons) নিক্ষেপ করা হয়। অভিযানে ২০টির বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন অংশ নেয়, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এফ–১৫ই, এ–১০, এসি–১৩০জে ও এমকিউ–৯ ড্রোন এবং জর্ডানের এফ–১৬ যুদ্ধবিমান উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই, যদি আমাদের সেনাদের ক্ষতি করা হয়, তবে আমরা আপনাকে খুঁজে বের করব এবং পৃথিবীর যেখানেই থাকুন না কেন, আপনাকে হত্যা করব। ন্যায়বিচার এড়ানোর কোনো চেষ্টাই সফল হবে না।”
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, গত ডিসেম্বরে পালমিরা এলাকায় আইএসের অতর্কিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন প্রথম ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ ঘোষণা করে। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত মোট ১১টি অভিযান পরিচালনা করেছে, যাতে প্রায় ২৫ জন আইএস সদস্য নিহত বা আটক হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর মার্কিন বাহিনী জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে মধ্য সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে শতাধিক নির্ভুল অস্ত্র নিক্ষেপ করে একটি বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল।
বর্তমান প্রশাসন আইএসের হামলার জবাব দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এটি কোনো নতুন যুদ্ধের সূচনা নয়, এটি প্রতিশোধের ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্র তার জনগণকে রক্ষায় কখনো দ্বিধা করবে না, কখনো পিছুও হটবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের শাসনের পতনের মাধ্যমে ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটলেও সিরিয়ার পরিস্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্থিতিশীল হয়নি। আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে বিশেষত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীসহ ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নানা তৎপরতার মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























