হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পর আমদানি কার্যক্রম আংশিকভাবে সচল হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় অবতরণ করেছে প্রথম আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট এবং পণ্য হ্যান্ডলিং ও ছাড়পত্র চলছে সীমিত পরিসরে। তবে মূল শেড পুড়ে যাওয়ায় আমদানিকারকরা এখনো ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে আছেন। আমদানি কার্যক্রমের গতি বাড়াতে বর্তমানে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করা হচ্ছে এবং বিজিএমইএ-এর সহায়তায় ২০০টি ট্রলি আনা হচ্ছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরও বিমানবন্দরের কার্গো অপারেশন একদিনের জন্যও বন্ধ রাখা হয়নি। বর্তমানে ৯ নম্বর গেট দিয়ে সাময়িকভাবে কার্গো ক্লিয়ারিং চলছে এবং স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগুনের সূত্রপাত আমদানি কুরিয়ার সার্ভিস থেকে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এবং রানওয়ের অ্যাপ্রোনে পণ্য স্তূপ করে রাখায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্যাথে প্যাসিফিক কার্গোর প্রথম ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে, যেখানে এদিন মোট আসা ১৪৭ টন আমদানি পণ্যের মধ্যে ১০৭ টন কার্গো মালামাল ছিল। তবে মূল আমদানি শেড পুড়ে যাওয়ায় বিকল্প হিসাবে রপ্তানি শেডের পাশে ছোট জায়গায় অস্থায়ীভাবে কাজ চলছে, যা স্থান সংকট ও সরঞ্জামের অভাবে ধীরগতিতে চলছে। সার্ভার অচল থাকায় কার্যক্রম আংশিকভাবে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলছে। আমদানিকারকরা বলছেন, বিকল্প গেটে পণ্য খালাস হওয়ায় ও অন্যান্য গেট বন্ধ থাকায় তাঁদের ভোগান্তি বেড়েছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে গত শনিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং টানা ২৬ ঘণ্টা পর তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ব্যবসায়ীরা প্রাথমিকভাবে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার পণ্য ও কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ার দাবি করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বেবিচক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কমিটির প্রতিবেদনের পরই ক্ষতির সঠিক পরিমাণ জানা যাবে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একাধিক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
পুড়ে যাওয়া কাঁচামালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, ভ্যাকসিন, হরমোনসহ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ উৎপাদনের উপকরণ ছিল। বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি জানিয়েছে, শীর্ষ ৪৫টি ওষুধ কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল পুড়েছে এবং এর ফলে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওষুধশিল্পের ঝুঁকি ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট এড়াতে সরকারের কাছে ১৪টি দাবিও তুলে ধরেছে সমিতি।
রিপোর্টারের নাম 






















