ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের সঙ্গে ১০ চুক্তি বাতিলের খবর সঠিক নয়, একটি চুক্তিই বাতিল হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিলের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শুধু একটি চুক্তিই বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে ভারতের সঙ্গে করা ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিলের দাবি করার পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে মাত্র একটি চুক্তি বাতিল করেছে। সেটি হলো ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি। এটি বিবেচনা করে দেখা গেছে যে বাংলাদেশের জন্য খুব একটা লাভজনক ছিল না, তাই বাতিল করা হয়েছে।

তিনি জানান, যে তালিকা একজন উপদেষ্টার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন, সেটা সঠিক নয়। এই তালিকার অনেক চুক্তির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই, একটি চুক্তি অনেক পুরনো এবং কয়েকটি চুক্তি পর্যালোচনার মধ্যে আছে, কিন্তু ঠিক ওই নামে নেই।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প বা অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ নামে কোনো প্রকল্প নেই। আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডোর নামে কিছু নেই, যা আছে তা হলো ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেন প্রকল্প’, যার একটি প্যাকেজ বাতিল হয়েছে। ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বা কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন প্রকল্প নামে কিছু নেই, যা আছে তা সমঝোতা স্মারক, যা বাতিল বা স্থগিত হয়নি। বন্দরের ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি নামেও কোনো চুক্তি নেই।

উপদেষ্টা আরও জানান, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল হয়নি, প্রক্রিয়া চলছে। আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে যা বলা হয়েছে, তা মোটামুটি ঠিক এবং এটা পুনর্বিবেচনার জন্য আলোচনা চলছে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে এবং এটা নবায়নের জন্য যোগাযোগ চলছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও খুব বেশি অগ্রগতি নেই। তবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

ভারতের সঙ্গে ১০ চুক্তি বাতিলের খবর সঠিক নয়, একটি চুক্তিই বাতিল হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট সময় : ১১:৩৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিলের যে খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শুধু একটি চুক্তিই বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ফেসবুকে ভারতের সঙ্গে করা ১০টি চুক্তি ও প্রকল্প বাতিলের দাবি করার পর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই বিষয়ে বিস্তারিত জানান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সঙ্গে মাত্র একটি চুক্তি বাতিল করেছে। সেটি হলো ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাগ বোট চুক্তি। এটি বিবেচনা করে দেখা গেছে যে বাংলাদেশের জন্য খুব একটা লাভজনক ছিল না, তাই বাতিল করা হয়েছে।

তিনি জানান, যে তালিকা একজন উপদেষ্টার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন, সেটা সঠিক নয়। এই তালিকার অনেক চুক্তির বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই, একটি চুক্তি অনেক পুরনো এবং কয়েকটি চুক্তি পর্যালোচনার মধ্যে আছে, কিন্তু ঠিক ওই নামে নেই।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প বা অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ নামে কোনো প্রকল্প নেই। আশুগঞ্জ–আগরতলা করিডোর নামে কিছু নেই, যা আছে তা হলো ‘আশুগঞ্জ নদীবন্দর-সরাইল-ধরখার-আখাউড়া স্থলবন্দর মহাসড়ককে চার লেন প্রকল্প’, যার একটি প্যাকেজ বাতিল হয়েছে। ফেনী নদী পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বা কুশিয়ারা নদীর পানিবণ্টন প্রকল্প নামে কিছু নেই, যা আছে তা সমঝোতা স্মারক, যা বাতিল বা স্থগিত হয়নি। বন্দরের ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি নামেও কোনো চুক্তি নেই।

উপদেষ্টা আরও জানান, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল বাতিল হয়নি, প্রক্রিয়া চলছে। আদানি বিদ্যুৎ নিয়ে যা বলা হয়েছে, তা মোটামুটি ঠিক এবং এটা পুনর্বিবেচনার জন্য আলোচনা চলছে। গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী বছর শেষ হবে এবং এটা নবায়নের জন্য যোগাযোগ চলছে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চললেও খুব বেশি অগ্রগতি নেই। তবে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।