ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাতীয় টেবিল টেনিসে অনন্য দৃশ্য: মা আম্পায়ার, ছেলে খেলোয়াড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

টেবিল টেনিসের সবুজ বোর্ডে যখন সাদা বলের চঞ্চলতা, তখন গ্যালারি ও মাঠের সবার নজর কাড়লো এক বিশেষ দৃশ্য। পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেনফ্লোরে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই দেখা গেল মা ও ছেলের এক অনন্য মেলবন্ধন। একদিকে যখন মা আম্পায়ারের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন, ঠিক অন্য পাশের কোর্টেই খেলোয়াড় হিসেবে লড়ছে তার ছোট ছেলে।

মা ফাতেমা তুজ জোহরা আঁখি এবং ছেলে এজাজ হোসেনের এই উপস্থিতি টুর্নামেন্টে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আঁখি একজন সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, যিনি ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি একজন লেভেল টু আম্পায়ার। এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ১৭ জন আম্পায়ারের মধ্যে যে দুজন নারী আম্পায়ার রয়েছেন, আঁখি তাদেরই একজন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০১৫ সালে আম্পায়ারিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন এবং ২০২৫ সালে লেভেল টু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অন্যদিকে ছেলে এজাজ হোসেন এবারই প্রথম জাতীয় আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে। আজিমপুর রণিত স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর এই ছাত্র নওগাঁ জেলার হয়ে কোর্টে নেমেছে। প্রথম ম্যাচে কোনো জড়তা ছাড়াই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে এজাজ। যদিও আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় মা আঁখি সরাসরি ছেলের খেলা দেখতে পারেননি, তবে ম্যাচ শেষে ঠিকই খবর নিয়েছেন। ছেলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত থাকলেও তার জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

পেশাগত জীবনে আঁখি বর্তমানে একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত। ব্যস্ত চাকরির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি আম্পায়ারিং চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের সন্তানকেও তিনি প্রযুক্তির আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলার মাঠে নিয়ে এসেছেন। আঁখির মতে, প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেকোনো একটি খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকা জরুরি।

মা ও ছেলের এমন ক্রীড়াপ্রেম বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। মা আঁখির দেখানো পথেই হয়তো আগামীর দিনে দেশের টেবিল টেনিসকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে ছোট্ট এজাজ—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের। পেশাগত ব্যস্ততা ও সাংসারিক দায়িত্বের মাঝেও খেলার প্রতি এই গভীর টান নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

জাতীয় টেবিল টেনিসে অনন্য দৃশ্য: মা আম্পায়ার, ছেলে খেলোয়াড়

আপডেট সময় : ১০:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

টেবিল টেনিসের সবুজ বোর্ডে যখন সাদা বলের চঞ্চলতা, তখন গ্যালারি ও মাঠের সবার নজর কাড়লো এক বিশেষ দৃশ্য। পল্টনের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ উডেনফ্লোরে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ। এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনেই দেখা গেল মা ও ছেলের এক অনন্য মেলবন্ধন। একদিকে যখন মা আম্পায়ারের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন, ঠিক অন্য পাশের কোর্টেই খেলোয়াড় হিসেবে লড়ছে তার ছোট ছেলে।

মা ফাতেমা তুজ জোহরা আঁখি এবং ছেলে এজাজ হোসেনের এই উপস্থিতি টুর্নামেন্টে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আঁখি একজন সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড়, যিনি ২০০৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি একজন লেভেল টু আম্পায়ার। এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ১৭ জন আম্পায়ারের মধ্যে যে দুজন নারী আম্পায়ার রয়েছেন, আঁখি তাদেরই একজন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০১৫ সালে আম্পায়ারিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন এবং ২০২৫ সালে লেভেল টু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

অন্যদিকে ছেলে এজাজ হোসেন এবারই প্রথম জাতীয় আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছে। আজিমপুর রণিত স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণীর এই ছাত্র নওগাঁ জেলার হয়ে কোর্টে নেমেছে। প্রথম ম্যাচে কোনো জড়তা ছাড়াই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে এজাজ। যদিও আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় মা আঁখি সরাসরি ছেলের খেলা দেখতে পারেননি, তবে ম্যাচ শেষে ঠিকই খবর নিয়েছেন। ছেলের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত থাকলেও তার জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।

পেশাগত জীবনে আঁখি বর্তমানে একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত। ব্যস্ত চাকরির পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি আম্পায়ারিং চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের সন্তানকেও তিনি প্রযুক্তির আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলার মাঠে নিয়ে এসেছেন। আঁখির মতে, প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য যেকোনো একটি খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকা জরুরি।

মা ও ছেলের এমন ক্রীড়াপ্রেম বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা। মা আঁখির দেখানো পথেই হয়তো আগামীর দিনে দেশের টেবিল টেনিসকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে ছোট্ট এজাজ—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের। পেশাগত ব্যস্ততা ও সাংসারিক দায়িত্বের মাঝেও খেলার প্রতি এই গভীর টান নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।