ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের হাতে দেওয়া হবে: নৌ সচিব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর টার্মিনাল এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। নৌ সচিব বলেন, তিনটি টার্মিনালের মধ্যে পানগাঁও টার্মিনাল হস্তান্তরে কিছুটা সময় নেওয়া হবে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অক্টোবরের মধ্যে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটির ক্ষেত্রেও কিছুটা বিলম্ব হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর একটি কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) ও ভৌগোলিক বিষয়। তবে শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ অনেক দেশেই বিদেশি অপারেটর বন্দর পরিচালনা করছে এবং সেখানে সমস্যা না হলে আমাদের ক্ষেত্রেও হবে না।

বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় উল্লেখ করে সচিব বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন ১৩টি গেট থাকলেও মাত্র ৬টিতে স্ক্যানিং মেশিন কার্যকর আছে, যার মধ্যে ৩-৪টি প্রায় সময় বিকল থাকে। তিনি জানান, বন্দরের কার্যকারিতা ও সেবার মান বাড়াতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এতে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে তাঁরা নানা কথা বললেও পরিস্থিতি বুঝে পরে চুপ থাকেন, এবং সরকার দেশের স্বার্থে কাজ করছে।

সেবার খরচ বাড়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, যদি সেবার মান উন্নত হয় এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়, তাহলে জাহাজের অযথা অপেক্ষা কমে যাবে, ফলে ড্যামারেজ খরচও কমবে। সে ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি খরচ দিতে অসুবিধা হবে না।

মূল প্রবন্ধে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়দী সাত্তার বলেন, দেশে জাহাজভাঙা শিল্প ও ছোট জাহাজ নির্মাণখাত বড় জাহাজ নির্মাণের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। জাহাজ রপ্তানির জন্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ আছে। এগুলো ঠিক মতো সরবরাহ করতে পারলে কার্যাদেশ আরও বাড়বে। এজন্য প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে জাহাজ নির্মাণশিল্প উপযোগী ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

ডিসেম্বরের মধ্যে ৩ টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের হাতে দেওয়া হবে: নৌ সচিব

আপডেট সময় : ১১:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর টার্মিনাল এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সমুদ্রগামী জাহাজশিল্পে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। নৌ সচিব বলেন, তিনটি টার্মিনালের মধ্যে পানগাঁও টার্মিনাল হস্তান্তরে কিছুটা সময় নেওয়া হবে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) অক্টোবরের মধ্যে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটির ক্ষেত্রেও কিছুটা বিলম্ব হবে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তর একটি কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) ও ভৌগোলিক বিষয়। তবে শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ অনেক দেশেই বিদেশি অপারেটর বন্দর পরিচালনা করছে এবং সেখানে সমস্যা না হলে আমাদের ক্ষেত্রেও হবে না।

বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় উল্লেখ করে সচিব বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন ১৩টি গেট থাকলেও মাত্র ৬টিতে স্ক্যানিং মেশিন কার্যকর আছে, যার মধ্যে ৩-৪টি প্রায় সময় বিকল থাকে। তিনি জানান, বন্দরের কার্যকারিতা ও সেবার মান বাড়াতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, এতে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। ব্যবসায়ীদের আপত্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুরুতে তাঁরা নানা কথা বললেও পরিস্থিতি বুঝে পরে চুপ থাকেন, এবং সরকার দেশের স্বার্থে কাজ করছে।

সেবার খরচ বাড়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, যদি সেবার মান উন্নত হয় এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়, তাহলে জাহাজের অযথা অপেক্ষা কমে যাবে, ফলে ড্যামারেজ খরচও কমবে। সে ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি খরচ দিতে অসুবিধা হবে না।

মূল প্রবন্ধে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়দী সাত্তার বলেন, দেশে জাহাজভাঙা শিল্প ও ছোট জাহাজ নির্মাণখাত বড় জাহাজ নির্মাণের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। জাহাজ রপ্তানির জন্য প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ আছে। এগুলো ঠিক মতো সরবরাহ করতে পারলে কার্যাদেশ আরও বাড়বে। এজন্য প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে জাহাজ নির্মাণশিল্প উপযোগী ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।