ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তফসিলের পর নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ইসির অধীনে রাখার দাবি জানালো খেলাফত মজলিস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে রাখার দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটি বলছে, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও আইন মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষত মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন যারা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, তাঁদের নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন চাইলে তাঁদের যে কাউকে বদলি করতে পারবেন।

সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সই করা লিখিত প্রস্তাবনায় এই দাবিগুলো জানানো হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়: নির্বাচন কমিশনের কাজে সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না, এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নির্বাচনকে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রস্তাবনায় ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নির্বাচনী বুথে সিসিটিভি স্থাপন করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া, সব দলীয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রচারণা ছাড়া অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব ও ব্যয় নির্বাচন কমিশন বহন করবে, এমন ব্যবস্থা করা; ব্যয়ের গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রার্থীতা বা নির্বাচিত হলেও পদ বাতিল করার ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

দলটি আরও দাবি করে: সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে বিদায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়া অথবা দলীয় এমপি, মন্ত্রীদের পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। ইভিএম যেহেতু অদ্যাবধি জনগণ ও রাজনীতিকদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি, তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পরিহার করা উচিত। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা চালু করার পরই ইভিএম চালু করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

সবশেষে, নির্বাচনের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে, সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সংলাপের সূচনা করা জরুরি বলেও মত দেয় খেলাফত মজলিস। সংলাপে দলটির পক্ষে ১১ সদস্য অংশ নেন। এসময় নির্বাচন কমিশনাররাসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

তফসিলের পর নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ইসির অধীনে রাখার দাবি জানালো খেলাফত মজলিস

আপডেট সময় : ১১:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে রাখার দাবি জানিয়েছে খেলাফত মজলিস। দলটি বলছে, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও আইন মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষত মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন যারা নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, তাঁদের নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন চাইলে তাঁদের যে কাউকে বদলি করতে পারবেন।

সোমবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের সই করা লিখিত প্রস্তাবনায় এই দাবিগুলো জানানো হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়: নির্বাচন কমিশনের কাজে সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না, এমন নিশ্চয়তা থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবলের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নির্বাচনকে অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত রেখে সবার জন্য সমান সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রস্তাবনায় ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি নির্বাচনী বুথে সিসিটিভি স্থাপন করার দাবি জানানো হয়। এছাড়া, সব দলীয় প্রার্থীর ব্যক্তিগত প্রচারণা ছাড়া অন্যান্য আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব ও ব্যয় নির্বাচন কমিশন বহন করবে, এমন ব্যবস্থা করা; ব্যয়ের গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রার্থীতা বা নির্বাচিত হলেও পদ বাতিল করার ব্যবস্থা থাকতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

দলটি আরও দাবি করে: সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে বিদায়ী সংসদ ভেঙে দেওয়া অথবা দলীয় এমপি, মন্ত্রীদের পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। ইভিএম যেহেতু অদ্যাবধি জনগণ ও রাজনীতিকদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি, তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম পরিহার করা উচিত। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা ও দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা চালু করার পরই ইভিএম চালু করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

সবশেষে, নির্বাচনের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে, সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনকালীন দল নিরপেক্ষ একটি সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় সংলাপের সূচনা করা জরুরি বলেও মত দেয় খেলাফত মজলিস। সংলাপে দলটির পক্ষে ১১ সদস্য অংশ নেন। এসময় নির্বাচন কমিশনাররাসহ ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।