মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলায় ভবিষ্যতে যেকোনো সামরিক অভিযান পরিচালনার আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ৫২-৪৭ ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হয়, যা প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতার ওপর নতুন করে লাগাম টানার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ভোটাভুটি এমন এক সময়ে হলো যখন এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমোদনে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার লক্ষ্যে একটি অভিযান চালানো হয়েছিল।
‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলেশন’ নামে পরিচিত এই প্রস্তাবটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়। প্রস্তাবটির মূল কথা হলো, ভেনেজুয়েলায় আবারও মার্কিন সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে হলে প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন এবং কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল যৌথভাবে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
সিনেটে এই প্রস্তাব পাস হওয়া একটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে, এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের পথে আর কোনো বড় বাধা নেই। সিনেট থেকে অনুমোদনের পর এটি নিম্নকক্ষ হাউসে যাবে, যেখানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত কম।
প্রস্তাব পাসের পরদিন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেওয়া পাঁচ রিপাবলিকান সিনেটরের তীব্র সমালোচনা করেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা ও লড়াই করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দেওয়া সিনেটরদের জন্য রিপাবলিকানদের লজ্জিত হওয়া উচিত।” তিনি র্যান্ড পল, মেইনের সুসান কলিন্স, আলাস্কার লিসা মারকাউস্কি, মিসৌরির জশ হাওলি ও ইন্ডিয়ানার টড ইয়াং— এই পাঁচ সিনেটরের “আর কখনো নির্বাচিত হওয়া উচিত নয়” বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সিনেটর সুসান কলিন্স সাংবাদিকদের বলেন, তার মনে হয় ট্রাম্প মেইন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট গভর্নর জ্যানেট মিলস বা এমন কাউকে পছন্দ করবেন, যার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো নয়। তিনি আরও বলেন, “নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার অভিযানটি অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল ছিল, এবং আমি সেটিকে সমর্থন করি। তবে কংগ্রেসের নির্দিষ্ট অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলা বা গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সম্পৃক্ততার পক্ষে আমি নই।”
এদিকে র্যান্ড পল এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, “ভুল বোঝার সুযোগ নেই— অন্য একটি দেশের রাজধানীতে বোমা হামলা চালানো ও তাদের নেতা অপসারণ করা সরাসরি যুদ্ধের শামিল। সংবিধানের কোথাও প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেননি।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ও কংগ্রেসে তার সমর্থকেরা দাবি করে আসছেন, মাদুরোকে আটক করার অভিযানে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন ছিল না, কারণ এটি ছিল একটি ‘আইন প্রয়োগমূলক অভিযান’। বর্তমানে মাদুরো নিউইয়র্কে মাদকসংক্রান্ত মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত নভেম্বরেও অনুরূপ একটি প্রস্তাব সিনেটে বাতিল হয়ে যায়। সে সময় মাত্র দুই রিপাবলিকান— র্যান্ড পল ও লিসা মারকাউস্কি— ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। মাদুরোকে বন্দি করার আগে ভেনেজুয়েলার আশপাশে কয়েক মাস ধরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
রিপোর্টারের নাম 

























