ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১ ফিলিস্তিনি নিহত, যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা চলমান যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিম প্রান্তে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। একই শহরের পূর্ব দিকে, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে, সেখানে পৃথক আরেকটি হামলায় আরও একজন প্রাণ হারান।

এছাড়াও, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে হামলায় একজন নিহত হন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর কাছে একটি তাঁবুতে হামলায় আরও একজন এবং গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় আলাদা হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ জনে।

এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পরবর্তীতে দাবি করেছে, হামাসের রকেট উৎক্ষেপণের পরপরই তারা সেগুলোর উৎক্ষেপণস্থলে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলিদের ভাষ্যমতে, হামাস থেকে ছোড়া রকেটটি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় হামাস দুইবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলেও ইসরায়েল অভিযোগ করেছে।

তবে ইসরায়েলের এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। অক্টোবরে যে যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল, সেটি এখনও তার প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করতে পারেনি। প্রথম ধাপে বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ থাকলেও, ইসরায়েল গাজার অর্ধেকেরও কম এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে। এর বিনিময়ে হামাস জীবিত জিম্মি ও নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করে এবং ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেয়। তবে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি, যা এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১ ফিলিস্তিনি নিহত, যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৩:১৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া এসব ঘটনা চলমান যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিম প্রান্তে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় চারজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। একই শহরের পূর্ব দিকে, যেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে, সেখানে পৃথক আরেকটি হামলায় আরও একজন প্রাণ হারান।

এছাড়াও, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্কুলে হামলায় একজন নিহত হন। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর কাছে একটি তাঁবুতে হামলায় আরও একজন এবং গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় আলাদা হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের হামলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১১ জনে।

এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পরবর্তীতে দাবি করেছে, হামাসের রকেট উৎক্ষেপণের পরপরই তারা সেগুলোর উৎক্ষেপণস্থলে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলিদের ভাষ্যমতে, হামাস থেকে ছোড়া রকেটটি ইসরায়েলি ভূখণ্ডে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় হামাস দুইবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলেও ইসরায়েল অভিযোগ করেছে।

তবে ইসরায়েলের এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। অক্টোবরে যে যুদ্ধবিরতিতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল, সেটি এখনও তার প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করতে পারেনি। প্রথম ধাপে বড় ধরনের সংঘর্ষ বন্ধ থাকলেও, ইসরায়েল গাজার অর্ধেকেরও কম এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছে। এর বিনিময়ে হামাস জীবিত জিম্মি ও নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করে এবং ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি দেয়। তবে, যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপগুলো এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি, যা এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।