ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্যে ‘গোরটি’র ভয়াল তাণ্ডব: রেড ওয়ার্নিং জারি, অচল জনজীবন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

আটলান্টিক থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘গোরটি’র ভয়াবহ তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে পুরো যুক্তরাজ্য। আবহাওয়া অফিস যাকে ‘মাল্টি-হ্যাজার্ড ওয়েদার বম’ বা বহুমুখী বিপজ্জনক তুষার বোমা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, সেই ঝড়ের প্রভাবে দেশজুড়ে কার্যত অচল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রাণহানির আশঙ্কায় দক্ষিণ উপকূলে জারি করা হয়েছে বিরল ‘রেড ওয়ার্নিং’।

সিল আইল্যান্ডসের সেন্ট মেরি বিমানবন্দরে বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড ৯৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা (প্রায় ১৬০ কিলোমিটার) পরিমাপ করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ঝড়ের তীব্রতায় শতবর্ষী গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্নওয়াল ও ডেভনসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী তুষারপাতের কারণে শুক্রবার শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু শ্রপশায়ারেই ৬০টির বেশি স্কুল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ওয়েলস, ওয়ারউইকশায়ার, পাউইস এবং ব্রিজেন্ডসহ বিস্তৃত এলাকায় সরাসরি পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। তুষারপাতের জেরে স্কুল বাস চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবকদের নিয়মিত ওয়েবসাইট পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভারী তুষারপাতের কারণে বার্মিংহাম বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে শুক্রবার সকালের বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। জার্সি এবং গার্নসি বিমানবন্দরগুলোও ঝড়ের কবলে পড়ে অচল হয়ে আছে। ডেভন ও কর্নওয়ালকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ‘টামার ব্রিজ’ সব ধরনের যানবাহনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরের দুর্গম পাহাড়ি রাস্তাগুলোতে তুষারের স্তূপ জমে যাওয়ায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ন্যাশনাল গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে এই বিপর্যয় ঘটেছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে উদ্ধারকারী দল নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তুষারে আটকে পড়া গাড়ি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকে ৩০ সেন্টিমিটার পুরু তুষারের নিচে আটকা পড়েছিলেন।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০১০ সালের পর অর্থাৎ গত ২০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্য এমন ভয়াবহ তুষারপাত ও বাতাসের সম্মিলিত তাণ্ডব দেখেনি। এই দুর্যোগে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা) বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবারও উত্তর ও মধ্য ইংল্যান্ডে ভারী তুষারপাত অব্যাহত থাকবে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকায় রাস্তাঘাট অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন, তারা যেন ঘরের হিটিং সিস্টেম অন্তত ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালু রাখেন। এতে পাইপ ফেটে যাওয়া রোধ হবে এবং দেয়ালে ছত্রাক জমা বন্ধ থাকবে। অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘর আসবাবপত্র ও দেয়ালের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, ১৮ এপ্রিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে

যুক্তরাজ্যে ‘গোরটি’র ভয়াল তাণ্ডব: রেড ওয়ার্নিং জারি, অচল জনজীবন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

আপডেট সময় : ০৩:১৪:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

আটলান্টিক থেকে ধেয়ে আসা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘গোরটি’র ভয়াবহ তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে পুরো যুক্তরাজ্য। আবহাওয়া অফিস যাকে ‘মাল্টি-হ্যাজার্ড ওয়েদার বম’ বা বহুমুখী বিপজ্জনক তুষার বোমা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, সেই ঝড়ের প্রভাবে দেশজুড়ে কার্যত অচল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রাণহানির আশঙ্কায় দক্ষিণ উপকূলে জারি করা হয়েছে বিরল ‘রেড ওয়ার্নিং’।

সিল আইল্যান্ডসের সেন্ট মেরি বিমানবন্দরে বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড ৯৯ মাইল প্রতি ঘণ্টা (প্রায় ১৬০ কিলোমিটার) পরিমাপ করা হয়েছে, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ঝড়ের তীব্রতায় শতবর্ষী গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্নওয়াল ও ডেভনসহ দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও ভারী তুষারপাতের কারণে শুক্রবার শত শত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু শ্রপশায়ারেই ৬০টির বেশি স্কুল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া ওয়েলস, ওয়ারউইকশায়ার, পাউইস এবং ব্রিজেন্ডসহ বিস্তৃত এলাকায় সরাসরি পাঠদান স্থগিত করা হয়েছে। তুষারপাতের জেরে স্কুল বাস চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অভিভাবকদের নিয়মিত ওয়েবসাইট পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভারী তুষারপাতের কারণে বার্মিংহাম বিমানবন্দরের রানওয়েতে বিমান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে শুক্রবার সকালের বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। জার্সি এবং গার্নসি বিমানবন্দরগুলোও ঝড়ের কবলে পড়ে অচল হয়ে আছে। ডেভন ও কর্নওয়ালকে সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ‘টামার ব্রিজ’ সব ধরনের যানবাহনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরের দুর্গম পাহাড়ি রাস্তাগুলোতে তুষারের স্তূপ জমে যাওয়ায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ন্যাশনাল গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ পড়ে এই বিপর্যয় ঘটেছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে উদ্ধারকারী দল নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তুষারে আটকে পড়া গাড়ি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের অনেকে ৩০ সেন্টিমিটার পুরু তুষারের নিচে আটকা পড়েছিলেন।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০১০ সালের পর অর্থাৎ গত ২০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্য এমন ভয়াবহ তুষারপাত ও বাতাসের সম্মিলিত তাণ্ডব দেখেনি। এই দুর্যোগে প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা) বেশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শুক্রবারও উত্তর ও মধ্য ইংল্যান্ডে ভারী তুষারপাত অব্যাহত থাকবে। তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকায় রাস্তাঘাট অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে আছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন, তারা যেন ঘরের হিটিং সিস্টেম অন্তত ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালু রাখেন। এতে পাইপ ফেটে যাওয়া রোধ হবে এবং দেয়ালে ছত্রাক জমা বন্ধ থাকবে। অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘর আসবাবপত্র ও দেয়ালের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।