ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে নতুন করে তীব্র গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় রাজপথে নেমে এসেছেন। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের পতন চাই’, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র নিপাত যাক’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত আটটায় সাবেক নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির আহ্বানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ে তেহরানের একাধিক পাড়ায় একযোগে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পরিবেশ। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ সাবেক শাহের পক্ষে স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘এটাই শেষ লড়াই, পাহলভি ফিরে আসবেই’।
খবরে প্রকাশ, তেহরানের বাইরেও ইরানের বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে অনেক বাজার ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে সহিংসতায় কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হয়েছেন এবং ২ হাজার ২৭০ জনেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের প্রধান ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। সরকারের এমন পদক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা তখন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ স্লোগান দিতে থাকেন।
এ প্রসঙ্গে রেজা পাহলভি বলেছেন, আজ রাতে ইরানিরা তাদের স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে। এর জবাবে সরকার সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে, ল্যান্ডলাইন কেটে দেওয়া হয়েছে, এমনকি স্যাটেলাইট সংকেত জ্যাম করার চেষ্টাও হতে পারে।
তিনি ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একযোগে ইরান সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের কণ্ঠস্বর বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে সব ধরনের প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা ব্যবহারের আহ্বান জানান।
পাহলভি আরও জানিয়েছেন, বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে তিনি পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। অতীতে ইসরায়েলের প্রতি তার সমর্থন নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে, বিশেষ করে গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর এই সমালোচনা আরও তীব্র হয়।
সাম্প্রতিক বিক্ষোভে শাহের পক্ষে স্লোগান শোনা গেলেও তা পাহলভির ব্যক্তিগত নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন, নাকি ১৯৭৯ সালের বিপ্লব পূর্ব সময়ে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 























