ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দুদকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি টিউলিপের: বাংলাদেশের আদালতের রায়কে ‘প্রহসন’ অভিহিত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক এখন দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লন্ডনে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন। টিউলিপের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের মক্কেলের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, টিউলিপ তার খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে মা শেখ রেহানার নামে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। তবে এই বিচার প্রক্রিয়াকে লন্ডনের ল ফার্ম ‘স্টেফেনসন হারউড’ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, টিউলিপকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই পলাতক দেখিয়ে রায় দেওয়া হয়েছে। এমনকি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের যে অভিযোগ দুদকের পক্ষ থেকে আনা হয়েছে, তার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই বলেও তারা উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, টিউলিপ সিদ্দিক কোনো সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।

এদিকে, টিউলিপের পক্ষে লন্ডনের পাঁচজন প্রখ্যাত আইনজীবী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে চিঠি লিখে এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘সাজানো’ এবং ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মধ্যে সাবেক বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড এবং শেরি ব্লেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। তারা দাবি করেন, টিউলিপকে যে ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা রূপপুর চুক্তির ১০ বছর আগের ঘটনা এবং এটি তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যথাযথভাবে ঘোষণা করেছিলেন। অন্যদিকে, দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই রায়ের বিষয়টি দাবি করে আসলেও, কোনো স্ক্রিনশট বা প্রামাণ্য দলিল ছাড়াই কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার দল লেবার পার্টি এই রায়কে ‘স্বীকৃতি’ না দিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

১৮০ দিনের মধ্যে ৫ জেলায় চালু হচ্ছে ‘ই-হেলথ কার্ড’, সংসদে জানালেন প্রধানমন্ত্রী

দুদকের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি টিউলিপের: বাংলাদেশের আদালতের রায়কে ‘প্রহসন’ অভিহিত

আপডেট সময় : ০১:২২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি মামলায় বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক এখন দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ‘মিথ্যা ও মানহানিকর’ অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লন্ডনে আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন। টিউলিপের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের মক্কেলের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত টিউলিপ সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, টিউলিপ তার খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে মা শেখ রেহানার নামে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। তবে এই বিচার প্রক্রিয়াকে লন্ডনের ল ফার্ম ‘স্টেফেনসন হারউড’ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, টিউলিপকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই পলাতক দেখিয়ে রায় দেওয়া হয়েছে। এমনকি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫ বিলিয়ন ডলার পাচারের যে অভিযোগ দুদকের পক্ষ থেকে আনা হয়েছে, তার কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই বলেও তারা উল্লেখ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, টিউলিপ সিদ্দিক কোনো সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।

এদিকে, টিউলিপের পক্ষে লন্ডনের পাঁচজন প্রখ্যাত আইনজীবী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে চিঠি লিখে এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘সাজানো’ এবং ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মধ্যে সাবেক বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড এবং শেরি ব্লেয়ারের মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। তারা দাবি করেন, টিউলিপকে যে ফ্ল্যাট উপহার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, তা রূপপুর চুক্তির ১০ বছর আগের ঘটনা এবং এটি তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যথাযথভাবে ঘোষণা করেছিলেন। অন্যদিকে, দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই রায়ের বিষয়টি দাবি করে আসলেও, কোনো স্ক্রিনশট বা প্রামাণ্য দলিল ছাড়াই কেবল মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার দল লেবার পার্টি এই রায়কে ‘স্বীকৃতি’ না দিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।