যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী এক অভিযান চলাকালে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই এজেন্টদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উঠে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি লালচে রঙের গাড়ি সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে দাঁড়িয়ে ছিল এবং আইসিই এজেন্টরা সেটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেন। গাড়িটি সামান্য পেছনের দিকে গিয়ে পুনরায় সামনের দিকে এগোতে শুরু করলে এজেন্টরা লক্ষ্য করে পরপর তিনটি গুলি ছোড়েন। এতে ওই নারীর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র আইসিই এজেন্টদের পক্ষ সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের দাবি, নিহত নারী গাড়ি চালিয়ে কর্মকর্তাদের আঘাত করার মাধ্যমে হামলার চেষ্টা করেছিলেন। কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই তারা গুলি চালাতে বাধ্য হন। এমনকি এই ঘটনায় নিহত নারীকে একজন পেশাদার উসকানিদাতা হিসেবে আখ্যায়িত করে মন্তব্য করা হয়েছে দেশটির শীর্ষ পর্যায় থেকে। সরকারের এমন অনমনীয় অবস্থান অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে তাদের কঠোর নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে প্রশাসনের এই আত্মরক্ষার দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। মেয়র জানান, তিনি ঘটনার ভিডিও ফুটেজটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং সেখানে সরকারি দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
ভিডিওতে দেখা দৃশ্য এবং আইসিই কর্মকর্তাদের বর্ণনার মধ্যে ব্যাপক গরমিল থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষ অভিবাসন কর্মকর্তাদের এমন আচরণকে বেপরোয়া আখ্যা দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছেন।
রিপোর্টারের নাম 























