জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া আয় ও সম্পদের তথ্য নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তির কড়া সমালোচনা করেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি এসব অপপ্রচারের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। নাহিদ ইসলাম জানান, তার বাৎসরিক আয় নিয়ে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তা মূলত ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। হলফনামায় উল্লেখিত ১৬ লাখ টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মোট আয়ের হিসাব। এর মধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকা তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বেতন ও ভাতা বাবদ পেয়েছেন। বাকি অর্থ উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে অর্জন করেছেন, যার যথাযথ কর পরিশোধ করা হয়েছে।
তার মোট ৩২ লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সম্পদ তার ২৭ বছরের জীবনের সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে জমানো টাকা, উপহার, স্বর্ণালংকার ও গৃহস্থালি আসবাবপত্রের মূল্য। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তার কোনো ব্যক্তিগত জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি নেই। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে তার মাত্র দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। উপদেষ্টা পদ ছাড়ার সময় একটি অ্যাকাউন্টে মাত্র ১০ হাজার টাকা থাকলেও পরে আসবাবপত্র কেনার সরকারি বরাদ্দ সেখানে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আইনগতভাবে হলফনামায় দেখানো হয়েছে।
পেশা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং তার পেশা হিসেবে কোথাও শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই প্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যারা বছরের পর বছর অনিয়ম করে অঢেল সম্পদ গড়েছেন তাদের নিয়ে প্রশ্ন না উঠলেও স্বচ্ছতা দেখালে উল্টো কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। তার দেওয়া সমস্ত তথ্য আয়কর রিটার্ন ও হলফনামার মাধ্যমে যে কেউ আইনগতভাবে যাচাই করতে পারবেন বলেও তিনি চ্যালেঞ্জ জানান। নাহিদ ইসলামের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার না করে স্বচ্ছভাবে চলাই এখন তার জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























