দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থানের কারণে উত্তর দিক থেকে আসা বরফশীতল বাতাসে জেলায় বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রার পারদ এক অঙ্কের ঘরে নেমে আসায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল সোমবার এই জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা শতভাগ এবং ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ কিলোমিটার বেগে হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ার কারণে কনকনে শীতের অনুভূতি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
বিগত কয়েকদিন ধরেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে পুরো জেলা। অনেক জায়গায় দুপুর গড়িয়ে গেলেও সূর্যের দেখা মিলছে না। কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। চালকদের দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে হচ্ছে।
শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে কাজে বের হতে না পেরে অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড ঠান্ডায় মাঠে বা চা বাগানে কাজ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। আয় কমে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে খাদ্যের সংস্থান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে জেলাজুড়ে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
আবহাওয়াবিদদের মতে, হিমেল বাতাস ও কুয়াশার কারণে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিনও সকাল ও সন্ধ্যায় ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং তাপমাত্রার পারদ আরও নিচে নামার আশঙ্কা রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























