নাটোর-বগুড়া মহাসড়কে তল্লাশিকালে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা জব্দের ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার রেন্ট এ-কার ব্যবসায়ী বাপ্পী কুমার দাস ও তার ছেলে বিন্তু কুমার দাস।
দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে সোমবার আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলাম বর্তমানে এলজিইডির সদর দপ্তরে কর্মরত থাকলেও তিনি গাইবান্ধায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অবৈধভাবে অর্জিত ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা পাচারের উদ্দেশ্যে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছিলেন। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করায় গাড়িচালক ও তার ছেলেকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল গেট এলাকায় নিয়মিত তল্লাশির সময় পুলিশ ওই প্রকৌশলীকে বহনকারী গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করে। ঘটনাটি সে সময় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে দুদকের অনুসন্ধানে জব্দকৃত অর্থের কোনো বৈধ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে অর্থটি দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
ঘটনার পরপরই প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। যদিও তিনি দাবি করেছিলেন যে ওই টাকা জমি বিক্রির মাধ্যমে সংগৃহীত, কিন্তু এর পক্ষে কোনো বৈধ নথিপত্র তিনি আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। দুদকের মামলার মাধ্যমে এখন এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হলো। এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
রিপোর্টারের নাম 

























