ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৩৭ লাখ টাকাসহ আটক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

নাটোরে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি তল্লাশি করে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী বাপ্পী কুমার দাস ও তার ছেলে বিন্তু কুমার দাস। সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মো. ছাবিউল ইসলাম বর্তমানে এলজিইডির সদর দপ্তরে কর্মরত। তিনি যখন গাইবান্ধায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, তখন ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকাসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়েন। জব্দকৃত এই অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন ও অবৈধভাবে স্থানান্তরের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তাকে সহযোগিতা করার অপরাধে গাড়িতে থাকা বাপ্পী কুমার ও বিন্তু কুমারকেও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের ১৩ মার্চ রাতে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল গেট এলাকায় মহাসড়কে পুলিশের নিয়মিত তল্লাশিকালে একটি প্রাইভেট কার থেকে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ উদ্ধার করা হয়। ওই গাড়িতে ছাবিউল ইসলাম রাজশাহী যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রমাণিত হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

সিংড়া থানায় সাময়িক আটক থাকার পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেও পরবর্তীতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ছাবিউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে। জব্দকৃত টাকা ফেরত পেতে ছাবিউল ইসলাম আদালতে আবেদন করে দাবি করেছিলেন যে, ওই অর্থ জমি বিক্রির। তবে এর সপক্ষে কোনো বৈধ নথিপত্র তিনি জমা দিতে পারেননি। সিরাজগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ছাবিউল ইসলাম রাজশাহীতে বসবাস করতেন। মামলা দায়েরের পর তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আলবানিজের পরিবারের মামলা: ফিলিস্তিন ইস্যুতে আইনি লড়াই

৩৭ লাখ টাকাসহ আটক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় : ০১:২৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

নাটোরে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি তল্লাশি করে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলামসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী বাপ্পী কুমার দাস ও তার ছেলে বিন্তু কুমার দাস। সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মো. ছাবিউল ইসলাম বর্তমানে এলজিইডির সদর দপ্তরে কর্মরত। তিনি যখন গাইবান্ধায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন, তখন ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকাসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ধরা পড়েন। জব্দকৃত এই অর্থের প্রকৃত উৎস গোপন ও অবৈধভাবে স্থানান্তরের চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তাকে সহযোগিতা করার অপরাধে গাড়িতে থাকা বাপ্পী কুমার ও বিন্তু কুমারকেও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছরের ১৩ মার্চ রাতে। নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল গেট এলাকায় মহাসড়কে পুলিশের নিয়মিত তল্লাশিকালে একটি প্রাইভেট কার থেকে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ উদ্ধার করা হয়। ওই গাড়িতে ছাবিউল ইসলাম রাজশাহী যাচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে অনুসন্ধানে নামে দুদক। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বলে প্রমাণিত হয়। এরপর আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

সিংড়া থানায় সাময়িক আটক থাকার পর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেও পরবর্তীতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ছাবিউল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে। জব্দকৃত টাকা ফেরত পেতে ছাবিউল ইসলাম আদালতে আবেদন করে দাবি করেছিলেন যে, ওই অর্থ জমি বিক্রির। তবে এর সপক্ষে কোনো বৈধ নথিপত্র তিনি জমা দিতে পারেননি। সিরাজগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও ছাবিউল ইসলাম রাজশাহীতে বসবাস করতেন। মামলা দায়েরের পর তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।