মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:০২ অপরাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

হয়রানি রোধ ও নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষায় সংস্কারের আহ্বান

  • হালনাগাদ সময় : ০৭:১৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) শিক্ষায় নারীদের ভর্তি সংখ্যা বাড়লেও সহিংসতা, হয়রানি ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব সমস্যাই নারীদের এই খাতে অংশগ্রহণের বড় বাধা বলে জানিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

প্রোগ্রেস প্রকল্পের আওতায় ‘টিভেট এবং দক্ষতা উন্নয়নে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে ইউএন উইমেন ও ঢাকা ট্রিবিউন। প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে কানাডা সরকার। কারিগরে সহায়তায় রয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কারিগরি সহায়তায় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর। 

গোলটেবিল বৈঠকে নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। টিভেট শিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও সহিংসতা, হয়রানি ও দুর্বল সুরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে রয়ে গেল তা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি সমস্যাগুলো কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

এসডিজি লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে টিভেট খাতে নারী শিক্ষার্থীদের হার ৩০ শতাংশ হওয়ার কথা। তবে এই খাতে নারীদের ভর্তি হার এখনও কম। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ শতাংশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ শতাংশ। শ্রম বাজারে নারীদের অংশ নেওয়া এখনও সীমিত। ১০ শতাংশেরও কম নারী আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং ৭০ শতাংশের বেশি নারী স্বল্প মজুরি বা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করছেন। 

গবেষণায় দেখা গেছে, টিভেট শিক্ষায় যুক্ত ৬০ শতাংশের বেশি নারী শিক্ষার্থী হয়রানি বা অনিরাপদ পরিবেশের শিকার হন। 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জোর দিয়ে বলেন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সদস্য জেসমিন আক্তার বলেন, “লিঙ্গ সংবেদনশীল পাঠ্যক্রম ও নিরাপদ প্রশিক্ষণ পরিবেশ আলাদা বা বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের ওপর নয়, বরং একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। অভিযোগের নিষ্পত্তি, মেন্টরশিপ ও জবাবদিহিতা নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে অপরিহার্য।” 

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জয়েন্ট সেক্রেটারি হাসিনা আক্তার বলেন, “আমরা নিরাপদ অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছি। হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করছি এবং টিভেট পাঠ্যক্রমে লিঙ্গ সমতা সংযুক্ত করছি। প্রশিক্ষণ, জবাবদিহিতা ও উচ্চতর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সরকারি সংস্থা, এনজিও ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” 

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

30 October 2026

জামায়াতের ‘জান্নাতের টিকিট’ আর কাজে আসবে না: রাশেদ খাঁন

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

হয়রানি রোধ ও নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে কারিগরি শিক্ষায় সংস্কারের আহ্বান

হালনাগাদ সময় : ০৭:১৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

কারিগরি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) শিক্ষায় নারীদের ভর্তি সংখ্যা বাড়লেও সহিংসতা, হয়রানি ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এসব সমস্যাই নারীদের এই খাতে অংশগ্রহণের বড় বাধা বলে জানিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা এ কথা বলেন।

প্রোগ্রেস প্রকল্পের আওতায় ‘টিভেট এবং দক্ষতা উন্নয়নে নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে ইউএন উইমেন ও ঢাকা ট্রিবিউন। প্রকল্পটির অর্থায়ন করছে কানাডা সরকার। কারিগরে সহায়তায় রয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) কারিগরি সহায়তায় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর। 

গোলটেবিল বৈঠকে নীতিনির্ধারক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। টিভেট শিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও সহিংসতা, হয়রানি ও দুর্বল সুরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে রয়ে গেল তা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি সমস্যাগুলো কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

এসডিজি লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে টিভেট খাতে নারী শিক্ষার্থীদের হার ৩০ শতাংশ হওয়ার কথা। তবে এই খাতে নারীদের ভর্তি হার এখনও কম। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০ শতাংশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪০ শতাংশ। শ্রম বাজারে নারীদের অংশ নেওয়া এখনও সীমিত। ১০ শতাংশেরও কম নারী আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং ৭০ শতাংশের বেশি নারী স্বল্প মজুরি বা ঝুঁকিপূর্ণ খাতে কাজ করছেন। 

গবেষণায় দেখা গেছে, টিভেট শিক্ষায় যুক্ত ৬০ শতাংশের বেশি নারী শিক্ষার্থী হয়রানি বা অনিরাপদ পরিবেশের শিকার হন। 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জোর দিয়ে বলেন। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) সদস্য জেসমিন আক্তার বলেন, “লিঙ্গ সংবেদনশীল পাঠ্যক্রম ও নিরাপদ প্রশিক্ষণ পরিবেশ আলাদা বা বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের ওপর নয়, বরং একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। অভিযোগের নিষ্পত্তি, মেন্টরশিপ ও জবাবদিহিতা নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে অপরিহার্য।” 

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জয়েন্ট সেক্রেটারি হাসিনা আক্তার বলেন, “আমরা নিরাপদ অবকাঠামো সম্প্রসারণ করছি। হয়রানি প্রতিরোধ কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করছি এবং টিভেট পাঠ্যক্রমে লিঙ্গ সমতা সংযুক্ত করছি। প্রশিক্ষণ, জবাবদিহিতা ও উচ্চতর অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সরকারি সংস্থা, এনজিও ও বেসরকারি খাতের অংশীদারত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” 

Share this news as a Photo Card