ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

খালেদা জিয়ার স্মরণে দেশের শীর্ষ ১৭ ব্যবসায়ী সংগঠনের শ্রদ্ধা

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি বাংলাদেশ)। 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে আইসিসিবি এবং দেশের ১৭টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। 

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে তার সরকার নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

আইসিসিবি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বেগম জিয়ার আমলের অর্থনৈতিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, তার শাসনামলে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি একটি শক্ত অবস্থানে ছিল। বিশেষ করে কাফকো সার কারখানায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগকে তৎকালীন সময়ের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

স্মরণসভায় বিশেষভাবে আলোচিত হয় শিক্ষা খাতে তার সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো। সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে তিনি মানবসম্পদ উন্নয়নে মাইলফলক স্থাপন করেন। এছাড়া মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি নারী ক্ষমতায়নে বিপ্লব ঘটিয়েছিল বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি বাড়াতে বেগম খালেদা জিয়া যেসব সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঘর নেই”—বেগম জিয়ার এই অমোঘ উক্তি ও গভীর দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। সভা শেষে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিসিবি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

খালেদা জিয়ার স্মরণে দেশের শীর্ষ ১৭ ব্যবসায়ী সংগঠনের শ্রদ্ধা

আপডেট সময় : ০৬:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি বাংলাদেশ)। 

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীতে আইসিসিবি এবং দেশের ১৭টি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদানের কথা স্মরণ করা হয়। 

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। মুসলিম বিশ্বের অন্যতম নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। ১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে তার সরকার নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে নারী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। 

আইসিসিবি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা বেগম জিয়ার আমলের অর্থনৈতিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, তার শাসনামলে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি একটি শক্ত অবস্থানে ছিল। বিশেষ করে কাফকো সার কারখানায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগকে তৎকালীন সময়ের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করা হয়। 

স্মরণসভায় বিশেষভাবে আলোচিত হয় শিক্ষা খাতে তার সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো। সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে তিনি মানবসম্পদ উন্নয়নে মাইলফলক স্থাপন করেন। এছাড়া মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি নারী ক্ষমতায়নে বিপ্লব ঘটিয়েছিল বলে বক্তারা মন্তব্য করেন।

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, মুক্তবাজার অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযুক্তি বাড়াতে বেগম খালেদা জিয়া যেসব সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।

বক্তারা আরও বলেন, “বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঘর নেই”—বেগম জিয়ার এই অমোঘ উক্তি ও গভীর দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। সভা শেষে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিসিবি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।