ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

সরকারের রাজস্ব আদায়ে মন্দা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ ব্যাপকহারে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা। অথচ, গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ঋণাত্মক ছিল (ঋণ পরিশোধ হয়েছিল) ৭৭৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

তবে, চলতি অর্থবছরের জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা (এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) ধরা হয়েছে, তার তুলনায় সরকারের ঋণ নেওয়ার গতি এখন পর্যন্ত ধীর রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়েছে ৫৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার বেশি।

সরকার সাধারণত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিত। অর্থনীতিবিদরা এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, এটি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ দেওয়া বন্ধ করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় ছিল না।” তাঁর মতে, উচ্চ সুদের হার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাত ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছে না।

বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়া কমেছে। গত বছরের নভেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল সাত দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০২১ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন (তখন ছিল সাত দশমিক ৫৫ শতাংশ)।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে আগ্রহী না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে টাকা জমে আছে। তাই ব্যাংকগুলো এখন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ডেইলি স্টারকে বলেন, “সরকারের এখন টাকার চাহিদা অনেক, জরুরি ভিত্তিতে টাকা দরকার।”

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ সরকারি প্রকল্প এখন বন্ধ আছে এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও টাকা দিচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।

তবে তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ডেইলি স্টারকে বলেন, “লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না, বিদেশ থেকেও টাকা কম আসছে। তাই সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে।”

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার ফলেই সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়ালো

আপডেট সময় : ০৪:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

সরকারের রাজস্ব আদায়ে মন্দা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তাসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ ব্যাপকহারে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের মোট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা। অথচ, গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ঋণাত্মক ছিল (ঋণ পরিশোধ হয়েছিল) ৭৭৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

তবে, চলতি অর্থবছরের জন্য ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা (এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) ধরা হয়েছে, তার তুলনায় সরকারের ঋণ নেওয়ার গতি এখন পর্যন্ত ধীর রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে প্রায় ৭৪ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পরিশোধ করা হয়েছে ৫৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকার বেশি।

সরকার সাধারণত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত সরকার সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিত। অর্থনীতিবিদরা এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেছিলেন যে, এটি মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, “কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ দেওয়া বন্ধ করায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়া ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় ছিল না।” তাঁর মতে, উচ্চ সুদের হার ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাত ঋণ নিতে আগ্রহী হচ্ছে না।

বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়া কমেছে। গত বছরের নভেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল সাত দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা ২০২১ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন (তখন ছিল সাত দশমিক ৫৫ শতাংশ)।

বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে আগ্রহী না হওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে টাকা জমে আছে। তাই ব্যাংকগুলো এখন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন ডেইলি স্টারকে বলেন, “সরকারের এখন টাকার চাহিদা অনেক, জরুরি ভিত্তিতে টাকা দরকার।”

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ সরকারি প্রকল্প এখন বন্ধ আছে এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোও টাকা দিচ্ছে না। তিনি উল্লেখ করেন, আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।

তবে তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ডেইলি স্টারকে বলেন, “লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না, বিদেশ থেকেও টাকা কম আসছে। তাই সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে।”

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার ফলেই সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে।”