ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

অলাভজনক খাতের মূল লক্ষ্য বিচ্যুতির ঝুঁকি; ব্র্যাক-আশাসহ বড় এনজিওগুলোর তীব্র আপত্তি

সরকারের প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ব্র্যাক, আশা ও টিএমএসএসসহ দেশের শীর্ষ ১৭টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা। গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, এই অধ্যাদেশ বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি কার্যকর হলে গত কয়েক দশকের অর্জন ধূলিসাৎ হতে পারে। মূলত অলাভজনক ও উন্নয়নমুখী ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাকে মুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং কাঠামোতে রূপান্তরের এই উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সেবাপ্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সরকারের এই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ‘ক্ষাপছাড়া’ ও ‘চাপিয়ে দেওয়া’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন এ খাতের প্রধান অংশীজনরা। তাদের মতে, এটি ক্ষুদ্রঋণ খাতের স্বকীয়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে দুর্বল করে দেবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ একটি অ-লাভজনক ও দরিদ্রবান্ধব প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যাংক মূলত মুনাফাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাকে ব্যাংকে রূপান্তরের ফলে এই খাত তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে। এর ফলে ধীরে ধীরে প্রান্তিক মানুষ ঋণ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের প্রবেশের ফলে অনৈতিক মুনাফালোভ ও সুশাসন সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা—যেমন খেলাপি ঋণ ও দুর্নীতি—ক্ষুদ্রঋণ খাতের মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে বলে সংস্থাগুলো মনে করে।

অধ্যাদেশে বিদ্যমান ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ বা বাস্তবায়নযোগ্য নির্দেশিকা নেই। বরং এতে ‘একাধিক ব্যক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে’ ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। ১৭টি সংস্থার মতে, এই ব্যক্তি মালিকানার ধারণা ক্ষুদ্রঋণ খাতের স্বকীয় চরিত্রকে নষ্ট করবে। এছাড়া, এমআরএ-এর (Microcredit Regulatory Authority) সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

অলাভজনক খাতের মূল লক্ষ্য বিচ্যুতির ঝুঁকি; ব্র্যাক-আশাসহ বড় এনজিওগুলোর তীব্র আপত্তি

আপডেট সময় : ০১:০৭:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
সরকারের প্রস্তাবিত ‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়ন খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ব্র্যাক, আশা ও টিএমএসএসসহ দেশের শীর্ষ ১৭টি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা। গতকাল রোববার (৪ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, এই অধ্যাদেশ বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি কার্যকর হলে গত কয়েক দশকের অর্জন ধূলিসাৎ হতে পারে। মূলত অলাভজনক ও উন্নয়নমুখী ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থাকে মুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংকিং কাঠামোতে রূপান্তরের এই উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক সেবাপ্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সরকারের এই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে ‘ক্ষাপছাড়া’ ও ‘চাপিয়ে দেওয়া’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন এ খাতের প্রধান অংশীজনরা। তাদের মতে, এটি ক্ষুদ্রঋণ খাতের স্বকীয়তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে দুর্বল করে দেবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষুদ্রঋণ একটি অ-লাভজনক ও দরিদ্রবান্ধব প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যাংক মূলত মুনাফাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাকে ব্যাংকে রূপান্তরের ফলে এই খাত তার মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হবে। এর ফলে ধীরে ধীরে প্রান্তিক মানুষ ঋণ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং কর্পোরেট বিনিয়োগকারীদের প্রবেশের ফলে অনৈতিক মুনাফালোভ ও সুশাসন সংকটের ঝুঁকি তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা—যেমন খেলাপি ঋণ ও দুর্নীতি—ক্ষুদ্রঋণ খাতের মধ্যেও সংক্রমিত হতে পারে বলে সংস্থাগুলো মনে করে।

অধ্যাদেশে বিদ্যমান ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, সে বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ বা বাস্তবায়নযোগ্য নির্দেশিকা নেই। বরং এতে ‘একাধিক ব্যক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব অর্থায়নে’ ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। ১৭টি সংস্থার মতে, এই ব্যক্তি মালিকানার ধারণা ক্ষুদ্রঋণ খাতের স্বকীয় চরিত্রকে নষ্ট করবে। এছাড়া, এমআরএ-এর (Microcredit Regulatory Authority) সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই এই খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।