ঢাকা ১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট, কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ

দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর দায়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, খুচরা বিক্রেতারা পরিকল্পিতভাবে এই সংকট তৈরি করেছে।

বৈঠকের পর্যালোচনা অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকটের কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন, যা ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধির ফলে বাজারে সরবরাহ কমার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। 

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে দাম বাড়াতে পারে— এমন আগাম তথ্যের ভিত্তিতে খুচরা বিক্রেতারা অবৈধ মজুত শুরু করে। উল্লেখ্য, আজই বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। 

মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়লে খুব দ্রুতই এলপিজির বাজার ও মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই প্রেক্ষিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আজই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে। এছাড়া আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে এলসি সহজীকরণ ও ভ্যাট হ্রাসের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। 

উল্লেখ্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কেবিনেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট, কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর দায়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে জ্বালানি বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, খুচরা বিক্রেতারা পরিকল্পিতভাবে এই সংকট তৈরি করেছে।

বৈঠকের পর্যালোচনা অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং জাহাজ সংকটের কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন, যা ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ আমদানি বৃদ্ধির ফলে বাজারে সরবরাহ কমার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। 

ব্যবসায়ী নেতারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে দাম বাড়াতে পারে— এমন আগাম তথ্যের ভিত্তিতে খুচরা বিক্রেতারা অবৈধ মজুত শুরু করে। উল্লেখ্য, আজই বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১২৫৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। 

মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও প্রশাসনিক নজরদারি বাড়লে খুব দ্রুতই এলপিজির বাজার ও মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই প্রেক্ষিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বর্তমান মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আজই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে। এছাড়া আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে এলসি সহজীকরণ ও ভ্যাট হ্রাসের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। 

উল্লেখ্য, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য কেবিনেট ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।