ঢাকা ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক কারওয়ান বাজার, যান চলাচল শুরু

অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর অবশেষে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রাস্তা ছেড়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার পর কারওয়ান বাজার সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। এরপর থেকেই মূলত পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরাতে অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাব ও সেনাবাহিনী। দফায় দফায় সংঘর্ষের পর দুপুর ২টার পর রাস্তা ছেড়ে যান ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে রবিবার পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। একইসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি।

ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে ‘অবস্থান কর্মসূচি’ শুরু করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। তারা সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিচার্জ করে ব্যবসায়ীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আবার সড়কে এসে বসে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। পরে ফের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ব্যবসায়ীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

পরে দেড়টার দিকে আবারও ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে এলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ব্যবসায়ীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশি অভিযানে টিকতে না পেরে ব্যবসায়ীরা রাস্তা ছেড়ে চলে যান। এরপর দুপুর আড়াইটার পর সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

এদিকে দীর্ঘসময় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বন্ধ থাকার জেরে রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও এর প্রভাব পড়ে। রামপুরা, মহাখালী, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিকাল ৩টার দিকে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। ডিসি মাসুদ আলম তাদের কথা শুনে দাবি-দাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন—এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনাদের ভেতরে ঢুকে কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আপনাদের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলবো। তারা সমাধানের চেষ্টা করবেন।

প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর লাগাম টানতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেজে। বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ডেমরায় বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল একজনের, আহত একাধিক

৪ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক কারওয়ান বাজার, যান চলাচল শুরু

আপডেট সময় : ০৪:১৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর অবশেষে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রাস্তা ছেড়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার পর কারওয়ান বাজার সড়ক অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। এরপর থেকেই মূলত পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরাতে অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে যোগ দেয় র‌্যাব ও সেনাবাহিনী। দফায় দফায় সংঘর্ষের পর দুপুর ২টার পর রাস্তা ছেড়ে যান ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে রবিবার পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। একইসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি।

ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারে সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে ‘অবস্থান কর্মসূচি’ শুরু করেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। তারা সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিচার্জ করে ব্যবসায়ীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।

এরপর দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ আবার সড়কে এসে বসে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। পরে ফের লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। পরে ব্যবসায়ীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

পরে দেড়টার দিকে আবারও ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে এলে পুলিশ বেধড়ক লাঠিচার্জ শুরু করে। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ব্যবসায়ীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকেন। উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশি অভিযানে টিকতে না পেরে ব্যবসায়ীরা রাস্তা ছেড়ে চলে যান। এরপর দুপুর আড়াইটার পর সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

এদিকে দীর্ঘসময় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। বন্ধ থাকার জেরে রাজধানীর অন্যান্য সড়কেও এর প্রভাব পড়ে। রামপুরা, মহাখালী, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিকাল ৩টার দিকে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। ডিসি মাসুদ আলম তাদের কথা শুনে দাবি-দাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন—এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনাদের ভেতরে ঢুকে কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। আপনাদের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলবো। তারা সমাধানের চেষ্টা করবেন।

প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর লাগাম টানতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর যুক্ত হচ্ছে জাতীয় ডাটাবেজে। বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা।