ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ না করলে সাইট ব্লক করে দেবে সরকার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনলাইন জুয়ার প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আগামীকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) থেকে কোনো ওয়েবসাইট জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে জুয়া খেলা, এর প্রচার বা এতে উৎসাহ দেওয়াকে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকার নিজেদের দেশের আওতাভুক্ত সাইটগুলো বন্ধ করতে পারলেও মেটা (ফেসবুক) ও গুগলের প্ল্যাটফর্মগুলোতে জুয়ার প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা ততটা সহজ হবে না।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিককালে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সামাজিক মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জুয়া, বাজি (বেটিং) ও পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন ও প্রচারণামূলক কনটেন্ট দেখা যাচ্ছে। এটি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যদি কোনো সংবাদপত্র (অনলাইন সংস্করণসহ), নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ওয়েবসাইটে জুয়া, বাজি বা পর্নোগ্রাফি-সম্পর্কিত কোনো কনটেন্ট প্রচারিত হয়, তবে বিনা নোটিশে সেই সাইট ব্লক করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গত শুক্রবার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সাইটে জুয়ার বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়ার কথা জানান। তিনি এসব বিজ্ঞাপন প্রচার অবিলম্বে বন্ধের শেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “অন্যথায় আপনাদের সাইটগুলো বিনা নোটিশে ব্লক হয়ে যাবে। আমরা আর কোনো নোটিশ দেব না।”

আজকের বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানায়, তাদের সতর্কতার পর এরই মধ্যে ক্রিকইনফো, জনকণ্ঠ, ঢাকা পোস্টসহ বেশ কিছু গণমাধ্যম তাদের অ্যাডসেন্স পরিবর্তন করেছে। এ জন্য সরকার তাদের ধন্যবাদও দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের সাইবারজগৎকে নিরাপদ, নৈতিক এবং প্রজন্মবান্ধব রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিটিআরসি, এনসিএসএ, এনটিএমসি, এনএসআই ও বিএফআইইউ যৌথভাবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, মেটা প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও গুগলের ইউটিউবে জুয়ার বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, যা তাদের নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রচারিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের (ডিআরএল) গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব গত বছরের এপ্রিলে এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে বসবাসকারীদের লক্ষ্য করে ফেসবুকে জুয়ার বিজ্ঞাপনে বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা পেজগুলোর বেশিরভাগই দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। খেলোয়াড়, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাদের ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা করে জুয়ার বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়। এমনকি তারকারা নিজেরাও অনেক সময় এই ধরনের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। যদিও সরকার আইন করে এই ধরনের প্রচার নিষিদ্ধ করেছে, তবুও সম্প্রতি কিছু মডেল ও অভিনয়শিল্পী তাদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে জুয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রচার চালিয়েছেন।

ডিসমিসল্যাবের সে প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার অনলাইন জুয়া ও গেমিং বিজ্ঞাপনের নীতিমালা বলছে, বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রচারের আগে একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে এবং কেবল মেটা কর্তৃক তালিকাভুক্ত দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে।

কিন্তু মেটার অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপনের জন্য অনুমোদিত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ডিসমিসল্যাব বলছে, এই বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের বিজ্ঞাপনের ধরন অস্পষ্ট করে অথবা মেটার শনাক্তকরণের পদ্ধতি এড়িয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ডিসমিসল্যাবের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জনপ্রিয় গেমিং অ্যাপগুলোতে গুগলের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়ছে। অনুমোদিত দেশ না হওয়া সত্ত্বেও গুগলের নীতিমালা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচারিত হচ্ছে, যা তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।

এছাড়াও, চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, গুগল নিজস্ব নীতি লঙ্ঘন করে ‘ডিপফেক’ (প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি) ব্যবহার করে মানুষকে পর্নো সাইট বা জুয়ার সাইটে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ না করলে সাইট ব্লক করে দেবে সরকার

আপডেট সময় : ০১:১৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় অনলাইন জুয়ার প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, আগামীকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) থেকে কোনো ওয়েবসাইট জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে জুয়া খেলা, এর প্রচার বা এতে উৎসাহ দেওয়াকে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সরকার নিজেদের দেশের আওতাভুক্ত সাইটগুলো বন্ধ করতে পারলেও মেটা (ফেসবুক) ও গুগলের প্ল্যাটফর্মগুলোতে জুয়ার প্রচার নিয়ন্ত্রণ করা ততটা সহজ হবে না।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিককালে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সামাজিক মাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জুয়া, বাজি (বেটিং) ও পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন ও প্রচারণামূলক কনটেন্ট দেখা যাচ্ছে। এটি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, যদি কোনো সংবাদপত্র (অনলাইন সংস্করণসহ), নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ওয়েবসাইটে জুয়া, বাজি বা পর্নোগ্রাফি-সম্পর্কিত কোনো কনটেন্ট প্রচারিত হয়, তবে বিনা নোটিশে সেই সাইট ব্লক করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গত শুক্রবার নিজের ফেসবুকে একটি পোস্টে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্টের সাইটে জুয়ার বিজ্ঞাপন দেখতে পাওয়ার কথা জানান। তিনি এসব বিজ্ঞাপন প্রচার অবিলম্বে বন্ধের শেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “অন্যথায় আপনাদের সাইটগুলো বিনা নোটিশে ব্লক হয়ে যাবে। আমরা আর কোনো নোটিশ দেব না।”

আজকের বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানায়, তাদের সতর্কতার পর এরই মধ্যে ক্রিকইনফো, জনকণ্ঠ, ঢাকা পোস্টসহ বেশ কিছু গণমাধ্যম তাদের অ্যাডসেন্স পরিবর্তন করেছে। এ জন্য সরকার তাদের ধন্যবাদও দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশের সাইবারজগৎকে নিরাপদ, নৈতিক এবং প্রজন্মবান্ধব রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে। এ বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বিটিআরসি, এনসিএসএ, এনটিএমসি, এনএসআই ও বিএফআইইউ যৌথভাবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, মেটা প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক ও গুগলের ইউটিউবে জুয়ার বিজ্ঞাপনের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে, যা তাদের নিজস্ব নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রচারিত হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণাকারী সংস্থা ডিজিটালি রাইট লিমিটেডের (ডিআরএল) গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাব গত বছরের এপ্রিলে এক প্রতিবেদনে জানায়, বাংলাদেশে বসবাসকারীদের লক্ষ্য করে ফেসবুকে জুয়ার বিজ্ঞাপনে বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এসব বিজ্ঞাপন প্রচার করা পেজগুলোর বেশিরভাগই দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। খেলোয়াড়, অভিনয়শিল্পীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের তারকাদের ছবি ও ভিডিও সম্পাদনা করে জুয়ার বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়। এমনকি তারকারা নিজেরাও অনেক সময় এই ধরনের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। যদিও সরকার আইন করে এই ধরনের প্রচার নিষিদ্ধ করেছে, তবুও সম্প্রতি কিছু মডেল ও অভিনয়শিল্পী তাদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে জুয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রচার চালিয়েছেন।

ডিসমিসল্যাবের সে প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার অনলাইন জুয়া ও গেমিং বিজ্ঞাপনের নীতিমালা বলছে, বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রচারের আগে একটি নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হবে এবং কেবল মেটা কর্তৃক তালিকাভুক্ত দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে।

কিন্তু মেটার অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপনের জন্য অনুমোদিত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ডিসমিসল্যাব বলছে, এই বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের বিজ্ঞাপনের ধরন অস্পষ্ট করে অথবা মেটার শনাক্তকরণের পদ্ধতি এড়িয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছে।

২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ডিসমিসল্যাবের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জনপ্রিয় গেমিং অ্যাপগুলোতে গুগলের বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়ছে। অনুমোদিত দেশ না হওয়া সত্ত্বেও গুগলের নীতিমালা ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে এই বিজ্ঞাপনগুলো প্রচারিত হচ্ছে, যা তাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।

এছাড়াও, চলতি বছরের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে, গুগল নিজস্ব নীতি লঙ্ঘন করে ‘ডিপফেক’ (প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও ভিডিও তৈরি) ব্যবহার করে মানুষকে পর্নো সাইট বা জুয়ার সাইটে নিয়ে যাচ্ছে।