সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চারটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তানজীর আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের এই কর্মকর্তা জানান, বে সিটি অ্যাপারেলস, ইয়েলো অ্যাপারেলস, পিংক মেকার ও অ্যাপোলো অ্যাপারেলস— এই চারটি ‘কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে মোট ২ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ৯৪১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সালমান এফ রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনতা ব্যাংকের ঢাকা লোকাল অফিস থেকে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তানজীর আহমেদ আরও জানান, প্রথম মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশে জনতা ব্যাংকের ঢাকা লোকাল অফিস থেকে কথিত গ্রাহক বে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেডের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়। পরে বিবি এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ‘অ্যাকমোডেশন বিল’ তৈরি করে ১২ কোটি ৩১ লাখ ৯২ হাজার ১১০ মার্কিন ডলার— যার বাংলাদেশি মূল্য প্রায় ১ হাজার ৪৭ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৩৫০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দ্বিতীয় মামলায় সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের আরেকটি ‘কাগুজে’ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদনের পর বিবি এলসির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ‘অ্যাকমোডেশন বিল’ তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৮ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পিংক মেকার লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করে বিবি এলসির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখানো হয়। এতে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ৫১৩ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৬৭৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৬১৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। আত্মসাৎ করা অর্থ নিজেদের মধ্যে হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে লেয়ারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চতুর্থ মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুমোদন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসা পরিচালনায় পূর্ব অভিজ্ঞতাহীন পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেড নামের একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে বিবি এলসির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ৮ কোটি ৪৬ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭১৯ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৬৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দুদক জানায়, আসামিরা একে অপরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























