ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

২০২৫-এর অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে ২০২৬ কি পারবে গণতান্ত্রিক উত্তরণের কাঙ্ক্ষিত পথে ফিরতে?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৫ সাল ছিল এক গভীর রূপান্তর ও চরম অনিশ্চয়তার সংমিশ্রণ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যে আশার আলো দেখিয়েছিল, পঁচিশের পুরোটা সময়জুড়ে সেই পথে ছায়া ফেলেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মব জাস্টিস এবং নিরাপত্তা শঙ্কা।

একদিকে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনের অবসান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের যবনিকা ঘটেছে; অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড এবং সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাগুলো দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে এখন দেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল হতে পারে গণতন্ত্রে উত্তরণের বছর অথবা গভীর হতাশার—সবই নির্ভর করছে একটি অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের ওপর।

রাজনীতির মাঠে বর্তমানে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যাদের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ ৩১ দফার রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি-র অন্তর্ভুক্তি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।

তবে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে থাকা মতবিরোধ এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কতটুকু স্থিতিশীলতা আনবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে ‘ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করলেও, ভোটারদের মনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি থাকলেও বছরের শেষার্ধে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে মব সন্ত্রাস এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল ভোট অনুষ্ঠানই যথেষ্ট নয়; বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ২০২৬ সাল যদি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং কার্যকর সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগোতে পারে, তবেই জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে। অন্যথায়, ২০২৫-এর সেই ‘অনিশ্চয়তার ছায়া’ দেশ ও জাতিকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলে দিতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থির তেলের বাজার, দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

২০২৫-এর অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে ২০২৬ কি পারবে গণতান্ত্রিক উত্তরণের কাঙ্ক্ষিত পথে ফিরতে?

আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৫ সাল ছিল এক গভীর রূপান্তর ও চরম অনিশ্চয়তার সংমিশ্রণ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যে আশার আলো দেখিয়েছিল, পঁচিশের পুরোটা সময়জুড়ে সেই পথে ছায়া ফেলেছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, মব জাস্টিস এবং নিরাপত্তা শঙ্কা।

একদিকে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনের অবসান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়ের যবনিকা ঘটেছে; অন্যদিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড এবং সংবাদপত্র ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনাগুলো দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে প্রস্তাবিত গণভোটকে কেন্দ্র করে এখন দেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সাল হতে পারে গণতন্ত্রে উত্তরণের বছর অথবা গভীর হতাশার—সবই নির্ভর করছে একটি অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের ওপর।

রাজনীতির মাঠে বর্তমানে নতুন মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ১৭ বছরের প্রবাস জীবন শেষে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে, যাদের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ ৩১ দফার রাষ্ট্র সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।

অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় জোটে ছাত্রনেতাদের দল এনসিপি-র অন্তর্ভুক্তি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে।

তবে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে থাকা মতবিরোধ এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কতটুকু স্থিতিশীলতা আনবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে ‘ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করলেও, ভোটারদের মনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে মুদ্রাস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধীরগতি থাকলেও বছরের শেষার্ধে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তবে মব সন্ত্রাস এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল ভোট অনুষ্ঠানই যথেষ্ট নয়; বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। ২০২৬ সাল যদি একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং কার্যকর সংস্কারের মধ্য দিয়ে এগোতে পারে, তবেই জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জিত হবে। অন্যথায়, ২০২৫-এর সেই ‘অনিশ্চয়তার ছায়া’ দেশ ও জাতিকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলে দিতে পারে।