২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রতিবেশী দেশ ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বীরদর্পে দেশে ফেরা এবং দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণ—এই দুটি ঘটনা বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ভারতের কৌশলগত বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সম্ভাব্য জয় বাংলাদেশে এমন একটি সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করতে পারে যা ভারতের নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে দিল্লির উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো বিএনপির ঐতিহাসিক পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠতা এবং জামায়াতে ইসলামীর সাথে দলটির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সখ্য।
অতীতে বিএনপির শাসনামলে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা এবং চরমপন্থী নেটওয়ার্কের বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। নয়াদিল্লি আশঙ্কা করছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সহযোগিতা নিশ্চিত হয়েছিল, ক্ষমতার পালাবদলে তা ব্যাহত হতে পারে। যদিও তারেক রহমান সম্প্রতি তাঁর ভাষণে ‘না দিল্লি, না পিন্ডি—সবার আগে বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশ ফার্স্ট) নীতি ঘোষণা করেছেন, তবুও তাঁর দলে থাকা ভারতবিরোধী চরমপন্থী অংশ এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রভাব ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার যে খবরগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আসছে, তা ভারতের উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে রাজনৈতিক পরিবেশ যেভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তাতে জামায়াতে ইসলামীর মতো শক্তিগুলোর পুনরুত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে একটি বিশেষ ‘ডেভেলপমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। দিল্লির মতে, আওয়ামী লীগ বিহীন আসন্ন এই নির্বাচনটি যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক না হয় এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট বলয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। ফলে সামনের দিনগুলোতে ঢাকার নতুন নেতৃত্বের সাথে দিল্লির সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে বৈশ্বিক রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ।
রিপোর্টারের নাম 

























