শীতে কাঁপছে সারা দেশ। দেশের প্রায় ২০ জেলার তাপমাত্রা নেমে গেছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা কমেছে সবচেয়ে বেশি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে দেশবাসী। গত কয়েক দিন ধরে সূর্য না ওঠা এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ার গতি বেড়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শুক্রবার পর্যন্ত এ ধরনের আবহাওয়া থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
উত্তরাঞ্চলে শীতের প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে এসেছে। দিনাজপুরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হওয়ায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নওগাঁ ও জয়পুরহাটসহ একাধিক জেলায় সকাল ও গভীর রাতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস বইছে। শীতের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেক এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কিশোরগঞ্জের নিকলিতে।
অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হলেও শীতের অনুভূতি বেশি। শীতে জবুথবু অবস্থায় রয়েছে নগরবাসী। কয়েক ধাপে গরম কাপড় পরে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে যেসব জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে, সেগুলো হলো—দিনাজপুরে ১১ দশমিক ৮, নীলফামারীতে ১২, কুড়িগ্রামে ১২, গাইবান্ধায় ১২, জয়পুরহাটে ১২, নওগাঁয় ১২, কুষ্টিয়ায় ১২ এবং লালমনিরহাটে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসব জেলার আশপাশের এলাকায় তাপমাত্রা আরও কম অনুভূত হচ্ছে। এসব জেলায় মাঝারি থেকে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এছাড়া ,অন্যান্য জেলার মধ্যে টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৬, গাজীপুরে ১২ দশমিক ৮, মানিকগঞ্জে ১২ দশমিক ৬, নারায়ণগঞ্জে ১৪, নরসিংদীতে ১৪ দশমিক ২, মুন্সীগঞ্জে ১৩, ফরিদপুরে ১৩ দশমিক ৫, মাদারীপুরে ১৩, শরীয়তপুরে ১২ দশমিক ৮ এবং গোপালগঞ্জে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৮, বগুড়ায় ১২ দশমিক ৫, পাবনায় ১২ দশমিক ২, নাটোরে ১২ দশমিক ৪, সিরাজগঞ্জে ১২ দশমিক ৮ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে তুলনামূলকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি। চট্টগ্রামে ১৫ দশমিক ৯, কক্সবাজারে ১৫ দশমিক ৬, কুমিল্লায় ১৪ দশমিক ৪, ফেনীতে ১৪, নোয়াখালীতে ১৪ দশমিক ৬, চাঁদপুরে ১৪ দশমিক ৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৪ দশমিক ৫, রাঙামাটিতে ১৪ দশমিক ৬, খাগড়াছড়িতে ১৫ এবং বান্দরবানে ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগে খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২, যশোরে ১২ দশমিক ৫, সাতক্ষীরায় ১৩, ঝিনাইদহে ১২ দশমিক ৬, চুয়াডাঙ্গায় ১২ দশমিক ৫, মাগুরায় ১২ দশমিক ৫, নড়াইলে ১২ দশমিক ৩ এবং বাগেরহাটে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বরিশাল বিভাগে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৮, পটুয়াখালীতে ১৩ দশমিক ৫, ভোলায় ১৪ এবং ঝালকাঠিতে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। সিলেট বিভাগে সিলেটে ১৪ এবং শ্রীমঙ্গলে ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















