ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইউক্রেন শান্তিচুক্তির সন্নিকটে, দাবি ট্রাম্পের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ইউক্রেনের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি কার্যকরের খুবই কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ এখনও সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে আছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা এসব কথা বলেন। শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বিতর্কিত দুই বিষয়—ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের বিভাজন—নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে উভয় পক্ষই জানান। উল্লেখ্য, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডনবাস দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

তবে বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কি বিস্তারিত জানাননি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কোনও সময়সীমার ইঙ্গিত দেননি। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা সফল হবে কি না, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। ভূখণ্ডসংক্রান্ত কিছু জটিল বিষয় এখনও সমাধান করতে হবে।

এদিকে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।

তবে ট্রাম্প কিছুটা সতর্ক ভাষায় বলেন, এ বিষয়ে তারা প্রায় ৯৫ শতাংশ এগিয়ে গেছেন এবং তিনি আশা করেন ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন সমর্থনে নিরাপত্তা প্রচেষ্টার বড় একটি অংশের দায়িত্ব নেবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তথাকথিত “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং”-এর দেশগুলো জানুয়ারির শুরুতে প্যারিসে বৈঠকে বসে তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে।

এর আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ডনবাস থেকে প্রত্যাহারের যে মার্কিন প্রস্তাব ছিল, তা কিছুটা নমনীয় হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দাবি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া। মস্কো পুরো ডনবাস দাবি করলেও কিয়েভ বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী মানচিত্র স্থির রাখতে চায়।

রবিবার ট্রাম্প ও জেলেনস্কি দুজনই বলেন, ডনবাসের ভবিষ্যৎ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনা সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেন যদি এলাকা ছাড়ে, তবে সেখানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়া যেতে পারে। তবে বাস্তবে সেই অঞ্চল কীভাবে কাজ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, এটি এখনো অমীমাংসিত, তবে আমরা অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছেছি। এটি খুবই কঠিন একটি বিষয়।

যুদ্ধ শেষে ইউক্রেনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে তাদের সমঝোতার প্রকৃতি নিয়ে খুব বেশি আলোকপাত করেননি। তবে রবিবারের বৈঠককে “দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কার ইস্যুতে দলের অবস্থানের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

ইউক্রেন শান্তিচুক্তির সন্নিকটে, দাবি ট্রাম্পের

আপডেট সময় : ১০:০২:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তি কার্যকরের খুবই কাছাকাছি পৌঁছানো গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডনবাস অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ এখনও সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত ইস্যু হয়ে আছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা এসব কথা বলেন। শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বিতর্কিত দুই বিষয়—ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের বিভাজন—নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে উভয় পক্ষই জানান। উল্লেখ্য, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডনবাস দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

তবে বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কি বিস্তারিত জানাননি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কোনও সময়সীমার ইঙ্গিত দেননি। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনা সফল হবে কি না, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। ভূখণ্ডসংক্রান্ত কিছু জটিল বিষয় এখনও সমাধান করতে হবে।

এদিকে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।

তবে ট্রাম্প কিছুটা সতর্ক ভাষায় বলেন, এ বিষয়ে তারা প্রায় ৯৫ শতাংশ এগিয়ে গেছেন এবং তিনি আশা করেন ইউরোপীয় দেশগুলো মার্কিন সমর্থনে নিরাপত্তা প্রচেষ্টার বড় একটি অংশের দায়িত্ব নেবে।

ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তথাকথিত “কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং”-এর দেশগুলো জানুয়ারির শুরুতে প্যারিসে বৈঠকে বসে তাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে।

এর আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ডনবাস থেকে প্রত্যাহারের যে মার্কিন প্রস্তাব ছিল, তা কিছুটা নমনীয় হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দাবি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়া। মস্কো পুরো ডনবাস দাবি করলেও কিয়েভ বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী মানচিত্র স্থির রাখতে চায়।

রবিবার ট্রাম্প ও জেলেনস্কি দুজনই বলেন, ডনবাসের ভবিষ্যৎ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আলোচনা সঠিক দিকেই এগোচ্ছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেন যদি এলাকা ছাড়ে, তবে সেখানে একটি মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়া যেতে পারে। তবে বাস্তবে সেই অঞ্চল কীভাবে কাজ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তিনি বলেন, এটি এখনো অমীমাংসিত, তবে আমরা অনেকটাই কাছাকাছি পৌঁছেছি। এটি খুবই কঠিন একটি বিষয়।

যুদ্ধ শেষে ইউক্রেনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে তাদের সমঝোতার প্রকৃতি নিয়ে খুব বেশি আলোকপাত করেননি। তবে রবিবারের বৈঠককে “দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” বলে উল্লেখ করেন জেলেনস্কি।

সূত্র: রয়টার্স