ঢাকা ০১:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রার্থীর মনোনয়নে ‘নির্ভরশীল সন্তান’র ব্যাখ্যা চায় বিএনপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে নির্ভরশীল সন্তানের বিষয়ে স্পষ্টতা চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একইসঙ্গে এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও জানতে চেয়েছে দলটি।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সিইসির সঙ্গে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠক করে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আরপিওতে না থাকা সত্ত্বেও মনোনয়নপত্রে সন্তানের আয়করের হিসাব দেওয়ার বিষয়টি রাখা হয়েছে, যা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, অনেকের সন্তান নিজেরাই উপার্জনক্ষম এবং নির্ভরশীল নন। অনেকেই দেশের বাইরে থাকেন, আবার অনেকেই আলাদাভাবে কর দেন। এ কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। এজন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি এবং সরাসরি কথা বলেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখানে নির্ভরশীল সন্তান বোঝানো হয়েছে। তারা বিষয়টির ব্যাখ্যা দেবেন যে ‘সন্তান’ বলতে নির্ভরশীল সন্তানকেই বোঝানো হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অপব্যবহার সমাজ, সভ্যতা ও উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর। এআই বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ অপপ্রচার বা মানহানিকর কিছু করলে নির্বাচন কমিশনের শক্ত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। ইসি ও দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে। তারা সমন্বিতভাবে বিষয়টি নজরে রাখবে এবং আরও সক্রিয় হবে বলে জানিয়েছে।”

তিনি বলেন, “অপপ্রচার পুরোপুরি বন্ধ করা সময়সাপেক্ষ। তবে দ্রুত ফ্যাক্টচেক করে ভুয়া তথ্য চিহ্নিত করা গেলে নেতিবাচক প্রচারণা কম ক্ষতিকর হবে। শুধু ভদ্র অনুরোধে কাজ হয় না। যারা এসব করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।”

মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে দলের কোনও সিদ্ধান্ত নেই এবং আলোচনারও কোনও ম্যান্ডেট ছিল না।”

জামায়াতে ইসলামীর ৩ তারিখের সমাবেশ আচরণবিধি ভঙ্গ কিনা—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ থাকলেও রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ নেই। এটি আচরণবিধি ভঙ্গ কি না, তা সংশ্লিষ্ট দল ও নির্বাচন কমিশনই বুঝবে।”

শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চূড়ান্ত বিষয় শেষ দিন পর্যন্তও চূড়ান্ত হয় না।”

এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোটের গুঞ্জন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং সব দলের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার স্বীকার করে। তবে তাদের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্তের অসামঞ্জস্য থাকায় অনেক নেতার দল ছাড়ার ঘোষণাও দেখা গেছে। বিষয়টি তাদের নিজস্ব ব্যাপার।”

বিএনপির সঙ্গে এনসিপির কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটি দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত; এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুই জায়গা থেকে মনোনয়ন তুলেছেন—তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বগুড়া থেকে করছেন—এটা নিশ্চিত। ঢাকায় করছেন কিনা, তা দলের পক্ষ থেকে জানানো হবে।”

নতুন যুক্ত নেতারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, ত্যাগীরা পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দল ও দেশের স্বার্থ সবার আগে। যদি কাউকে মনোনয়ন দিলে দলের ও দেশের স্বার্থ বেশি রক্ষা হয়, তাহলে ত্যাগী নেতারাই সেটিকে সবার আগে স্বাগত জানাবেন।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধবিরতি শুরুর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইসরাইলি আগ্রাসন, দক্ষিণ লেবাননে তীব্র গোলাবর্ষণ

প্রার্থীর মনোনয়নে ‘নির্ভরশীল সন্তান’র ব্যাখ্যা চায় বিএনপি

আপডেট সময় : ০৩:৪৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে নির্ভরশীল সন্তানের বিষয়ে স্পষ্টতা চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একইসঙ্গে এ বিষয়ে ব্যাখ্যাও জানতে চেয়েছে দলটি।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সিইসির সঙ্গে বিএনপির তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠক করে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আরপিওতে না থাকা সত্ত্বেও মনোনয়নপত্রে সন্তানের আয়করের হিসাব দেওয়ার বিষয়টি রাখা হয়েছে, যা নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, অনেকের সন্তান নিজেরাই উপার্জনক্ষম এবং নির্ভরশীল নন। অনেকেই দেশের বাইরে থাকেন, আবার অনেকেই আলাদাভাবে কর দেন। এ কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে গেছে। এজন্য আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি এবং সরাসরি কথা বলেছি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখানে নির্ভরশীল সন্তান বোঝানো হয়েছে। তারা বিষয়টির ব্যাখ্যা দেবেন যে ‘সন্তান’ বলতে নির্ভরশীল সন্তানকেই বোঝানো হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর অপব্যবহার সমাজ, সভ্যতা ও উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর। এআই বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ অপপ্রচার বা মানহানিকর কিছু করলে নির্বাচন কমিশনের শক্ত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। ইসি ও দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা রয়েছে। তারা সমন্বিতভাবে বিষয়টি নজরে রাখবে এবং আরও সক্রিয় হবে বলে জানিয়েছে।”

তিনি বলেন, “অপপ্রচার পুরোপুরি বন্ধ করা সময়সাপেক্ষ। তবে দ্রুত ফ্যাক্টচেক করে ভুয়া তথ্য চিহ্নিত করা গেলে নেতিবাচক প্রচারণা কম ক্ষতিকর হবে। শুধু ভদ্র অনুরোধে কাজ হয় না। যারা এসব করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি।”

মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে দলের কোনও সিদ্ধান্ত নেই এবং আলোচনারও কোনও ম্যান্ডেট ছিল না।”

জামায়াতে ইসলামীর ৩ তারিখের সমাবেশ আচরণবিধি ভঙ্গ কিনা—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ থাকলেও রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ নেই। এটি আচরণবিধি ভঙ্গ কি না, তা সংশ্লিষ্ট দল ও নির্বাচন কমিশনই বুঝবে।”

শরিক দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চূড়ান্ত বিষয় শেষ দিন পর্যন্তও চূড়ান্ত হয় না।”

এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোটের গুঞ্জন প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এবং সব দলের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার স্বীকার করে। তবে তাদের ঘোষিত আদর্শের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্তের অসামঞ্জস্য থাকায় অনেক নেতার দল ছাড়ার ঘোষণাও দেখা গেছে। বিষয়টি তাদের নিজস্ব ব্যাপার।”

বিএনপির সঙ্গে এনসিপির কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটি দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত; এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুই জায়গা থেকে মনোনয়ন তুলেছেন—তিনি কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন জানতে চাইলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বগুড়া থেকে করছেন—এটা নিশ্চিত। ঢাকায় করছেন কিনা, তা দলের পক্ষ থেকে জানানো হবে।”

নতুন যুক্ত নেতারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, ত্যাগীরা পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দল ও দেশের স্বার্থ সবার আগে। যদি কাউকে মনোনয়ন দিলে দলের ও দেশের স্বার্থ বেশি রক্ষা হয়, তাহলে ত্যাগী নেতারাই সেটিকে সবার আগে স্বাগত জানাবেন।”