ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি এনসিপির ৩০ নেতার, নাহিদকে চিঠি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীসহ ৮ দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির ৩০ নেতা।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্য।

চিঠিতে তারা তাদের আপত্তির ভিত্তি হিসেবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা উল্লেখ করেন।

বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির। তিনি বলেন, “জামায়াত বা ৮ দলের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার পক্ষে দলের ২১৪ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জন মত দিয়েছে। আর বাকি ৩০ জন আপত্তি দিয়েছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার বিপক্ষে মত দিয়ে ৩০ সদস্য চিঠিতে উল্লেখ করেন, “রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আমাদের দলের মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।”

এতে আরও বলা হয়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিগত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) এবং পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার,  অনলাইনে এনসিপি ও আমাদের ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সর্বোপরি, ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে।”

তাই দলটির সঙ্গে কোনও ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে। রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।

চিঠিতে তারা বলেন, “এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এখন অল্প কিছু আসনের জন্য কোনও জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”

জামায়াতের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানান এনিসিপির এই নেতারা।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন ও সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনী।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হওয়ায় ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকা ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। এনসিপি থেকে তাসনিম জারা পদত্যাগ করছেন বলেও জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুনরায় সরকারি ছুটি ঘোষিত হলো ৭ নভেম্বর: মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্ত

জামায়াতের সঙ্গে জোটে আপত্তি এনসিপির ৩০ নেতার, নাহিদকে চিঠি

আপডেট সময় : ১০:৪৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীসহ ৮ দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির ৩০ নেতা।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন দলের ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্য।

চিঠিতে তারা তাদের আপত্তির ভিত্তি হিসেবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা উল্লেখ করেন।

বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির। তিনি বলেন, “জামায়াত বা ৮ দলের সঙ্গে জোট বা আসন সমঝোতার পক্ষে দলের ২১৪ জন কেন্দ্রীয় সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জন মত দিয়েছে। আর বাকি ৩০ জন আপত্তি দিয়েছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার বিপক্ষে মত দিয়ে ৩০ সদস্য চিঠিতে উল্লেখ করেন, “রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আমাদের দলের মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।”

এতে আরও বলা হয়, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিগত এক বছরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) এবং পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার,  অনলাইনে এনসিপি ও আমাদের ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সর্বোপরি, ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে।”

তাই দলটির সঙ্গে কোনও ধরনের জোট এনসিপির নৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে। রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।

চিঠিতে তারা বলেন, “এর আগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি করে ১২৫ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। এখন অল্প কিছু আসনের জন্য কোনও জোটে যাওয়া জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”

জামায়াতের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক জোটে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানান এনিসিপির এই নেতারা।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন ও সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনী।

উল্লেখ্য, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হওয়ায় ঘোষণা দিয়েছেন এনসিপি’র সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকা ডা. তাসনিম জারা। শনিবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। এনসিপি থেকে তাসনিম জারা পদত্যাগ করছেন বলেও জানা গেছে।