দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর এক রাজসিক প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই ফেরা কেবল একজন নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। রাজধানী ঢাকার বিমানবন্দর থেকে শুরু করে প্রতিটি রাজপথ এদিন পরিণত হয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে, যা প্রমাণ করে দীর্ঘ প্রবাস জীবনেও সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র ম্লান হয়নি। তবে এই বিপুল জনসমর্থনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন রাষ্ট্র ও দলের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ এয়ার ডিফেন্স ইউনিট, র্যাব, বিজিবি এবং পুলিশের সমন্বয়ে চার স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। বিমানবন্দরের বাইরে সমবেত লাখো মানুষের মাঝে তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান”—যা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার এক নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। তাঁর এই সাহসী উচ্চারণ এবং মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার প্রবণতা যেমন জনপ্রিয়তাকে আকাশচুম্বী করেছে, তেমনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাসে তাঁকে অশুভ শক্তির প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনের প্রচারণায় যখন তাঁকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেতে হবে, তখন এই বিশাল জনস্রোত সামাল দেওয়া এবং ডাইনামিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হবে। বিশেষ করে উন্মুক্ত স্থানে জনসভা বা সাধারণ মানুষের সাথে মেশার সময় যে কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা, যেখানে জননিরাপত্তা ও নেতার সুরক্ষা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান সার্থকতা।
রিপোর্টারের নাম 

























