ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি। এরই মধ্যে এনসিপি, এলডিপি এবং লেবার পার্টির মতো দলগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় জামায়াতসহ আট দলের জোটে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বড় কোনো সংকটের কথা অস্বীকার করলেও, ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন দলকে কতটি আসন ছাড়া হবে—তা নিয়ে শরিকদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ছে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের মতো দলগুলো অনেক আসনে তাদের প্রার্থীদের জামায়াতের সমতুল্য শক্তিশালী বলে দাবি করায় প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।
নির্বাচনী এই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এনসিপি ও এবি পার্টির অবস্থান। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই দলগুলো একদিকে জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার কথা বলছে, অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছে। তবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির এই আলোচনার খবরে তাদের বর্তমান জোট ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’-এ ফাটল ধরেছে। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই সমঝোতার খবর সত্য হলে জোটের লক্ষ্য ও আদর্শ ক্ষুণ্ন হবে। অপরদিকে, বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ইতি টেনে অলি আহমদের এলডিপি এবং মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের লেবার পার্টিও এখন জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খুঁজছে।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা থাকলেও জামায়াত ও তার সহযোগীরা মনে করছে, বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান আসবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছেন, কোনো কোনো আসনে সমঝোতা না হলে সেগুলো উন্মুক্ত রাখা হতে পারে। তবে এনসিপি বা জেএসডির মতো দলগুলো শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরে থিতু হয়, তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর নির্বাচনী মেরুকরণ। জামায়াত সূত্র মতে, কেবল আসন নয়, দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমঝোতা নিশ্চিত করাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।
রিপোর্টারের নাম 

























