গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মালয়েশিয়া থেকে পাঠানো মানবিক সহায়তার মোট পাঁচটি ট্রাক রাফাহ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে। এই সহায়তা সামগ্রী পাঠিয়েছে মালয়েশিয়ার হিউম্যানিটারিয়ান কেয়ার (মাই কেয়ার) নামের একটি সংগঠন।
সংস্থাটির সিনিয়র প্রকল্প ব্যবস্থাপক কামারুল হালিম সাকরানি জানান, মোট পাঁচটি ট্রাকের মধ্যে চারটি ট্রাকে ছিল ৮০ টন আটা এবং একটি ট্রাকে ছিল ১ হাজার প্যাকেট খাদ্যসামগ্রী। এসব সহায়তার মোট বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার রিঙ্গিত।
তিনি আরও জানান, সহযোগী সংস্থা আল-খাইর বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে আটা বোঝাই দুটি ট্রাক ইতোমধ্যেই রাফাহ সীমান্ত হয়ে গাজায় পৌঁছে গেছে। সমস্ত সহায়তা সামগ্রী দক্ষিণ গাজার একটি গুদামে সংরক্ষণ করা হবে এবং সেখান থেকেই সংগঠনটির মহাব্যবস্থাপক ড. জিয়াদ শেহাদা এবং কামারুল হালিম বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
রাফাহ সীমান্ত খোলার পর মাই কেয়ার অক্টোবর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত দুই ধাপে একটি বড় মানবিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যা ড. জিয়াদ শেহাদার নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
এই পুরো প্রকল্পের মূল্যমান প্রায় ৯ মিলিয়ন রিঙ্গিত এবং এটি তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম তিন মাসের মধ্যে থাকবে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রকল্প— যেমন খাদ্য প্যাকেট বিতরণ, অস্থায়ী আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ এবং শিশুদের দুধ প্রদান।
পরবর্তী ছয় মাসের জন্য রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন প্রকল্প— যার মধ্যে সৌরশক্তিচালিত পানির কূপ খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং শিক্ষা অবকাঠামো পুনর্গঠন অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়াও, মাই কেয়ার গাজায় চলমান ক্লিনিক সেবা, আয়ের উৎস সৃষ্টির প্রকল্প এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রমও চালু রাখবে। মাই কেয়ার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৭ মিলিয়ন রিঙ্গিত সহায়তা দিয়েছে।
কামারুল হালিম জানান, এই সহায়তার মধ্যে ৮০ শতাংশ গাজাবাসীর জন্য, আর বাকি অংশ বায়তুল মুকাদ্দাস, পশ্চিম তীর এবং বিদেশে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য ব্যয় করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাই কেয়ার আটটি খাতে সহায়তা দিয়েছে, যার মধ্যে খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাথমিক পুনর্বাসন ও স্বাস্থ্যসেবা ছিল অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখব।
রিপোর্টারের নাম 

























