ঢাকা ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

‘গণভোট’ আয়োজনের এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই : জাসদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘গণভোট’ আয়োজনের মতো কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই বলে মনে করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে লেখা এক চিঠিতে এই অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি। 

এদিন জাসদের একটি প্রতিনিধি দল ইসি সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছয় দফা দাবি সম্বলিত এই চিঠিটি হস্তান্তর করেন। 

জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান ও ওবায়দুর রহমান চুন্নু স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত অনুযায়ী এই সরকার শুধু ‘নির্বাহী কার্য পরিচালনার’ নিমিত্তে গঠিত। জাসদ মনে করে, গণভোট আয়োজনের বিষয়ে কোনো অধ্যাদেশ জারি করা অসাংবিধানিক। সংবিধানের ৯৪(১)(খ) ও ১৪২(ক)(আ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ীও এই প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো অসাংবিধানিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া সমীচীন হবে না। 

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, একদিকে এক পক্ষকে ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে হাজার হাজার গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না বলে তারা দাবি করে। এছাড়া জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দখল হওয়া কার্যালয়গুলো মব সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করারও দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়। 

জাসদ মনে করে, সংবিধানে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক দলগুলোর নিবন্ধন পাওয়ার বা নির্বাচন করার কোনও অধিকার নেই। ইসি এক্ষেত্রে সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুসরণ করছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। 

দলটির দাবি, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নিবন্ধিত বিভিন্ন দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এখনও বিভিন্ন জেলায় জাসদের কার্যালয় সন্ত্রাসীদের দখলে থাকার অভিযোগও করা হয়। এছাড়া নিবন্ধিত আরও কিছু রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ‘মব সন্ত্রাসীদের’ দখলে রয়েছে বলে দাবি দলটির। এমন অবস্থায়, রাজনৈতিক কার্যালয় দখলমুক্ত না করলে এবং রাজনৈতিক নেতাদের উপর সারাদেশে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার না করলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ কখনোই তৈরি হবে না বলে মনে করে দলটি।  

নির্বাচনের আগে জুলাই-আগস্ট মাসে লুণ্ঠিত সব অস্ত্র উদ্ধার এবং মব সন্ত্রাস দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি। চিঠিতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। উপরন্তু, নির্বাচনের আগে গণহারে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।

পরিশেষে জাসদ জানায়, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনি আইন সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করেই কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

‘গণভোট’ আয়োজনের এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই : জাসদ

আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘গণভোট’ আয়োজনের মতো কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই বলে মনে করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনকে লেখা এক চিঠিতে এই অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি। 

এদিন জাসদের একটি প্রতিনিধি দল ইসি সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছয় দফা দাবি সম্বলিত এই চিঠিটি হস্তান্তর করেন। 

জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান ও ওবায়দুর রহমান চুন্নু স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত অনুযায়ী এই সরকার শুধু ‘নির্বাহী কার্য পরিচালনার’ নিমিত্তে গঠিত। জাসদ মনে করে, গণভোট আয়োজনের বিষয়ে কোনো অধ্যাদেশ জারি করা অসাংবিধানিক। সংবিধানের ৯৪(১)(খ) ও ১৪২(ক)(আ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ীও এই প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো অসাংবিধানিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া সমীচীন হবে না। 

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, একদিকে এক পক্ষকে ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে হাজার হাজার গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না বলে তারা দাবি করে। এছাড়া জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দখল হওয়া কার্যালয়গুলো মব সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করারও দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়। 

জাসদ মনে করে, সংবিধানে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক দলগুলোর নিবন্ধন পাওয়ার বা নির্বাচন করার কোনও অধিকার নেই। ইসি এক্ষেত্রে সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুসরণ করছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। 

দলটির দাবি, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নিবন্ধিত বিভিন্ন দলের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে। এখনও বিভিন্ন জেলায় জাসদের কার্যালয় সন্ত্রাসীদের দখলে থাকার অভিযোগও করা হয়। এছাড়া নিবন্ধিত আরও কিছু রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ‘মব সন্ত্রাসীদের’ দখলে রয়েছে বলে দাবি দলটির। এমন অবস্থায়, রাজনৈতিক কার্যালয় দখলমুক্ত না করলে এবং রাজনৈতিক নেতাদের উপর সারাদেশে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার না করলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ কখনোই তৈরি হবে না বলে মনে করে দলটি।  

নির্বাচনের আগে জুলাই-আগস্ট মাসে লুণ্ঠিত সব অস্ত্র উদ্ধার এবং মব সন্ত্রাস দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি। চিঠিতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। উপরন্তু, নির্বাচনের আগে গণহারে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।

পরিশেষে জাসদ জানায়, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনি আইন সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনি পরিবেশ তৈরি করেই কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।