ঢাকা ০৩:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ফ্যাসিবাদবিরোধী কবিতা ও কলাম লেখার দায়ে নির্যাতনের শিকার আরিফ উল্লাহ

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার আরিফ উল্লাহ, যিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে পরিচিত, তার সংগ্রামী জীবনে রয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। তার ক্ষুরধার লেখনী, অগ্নিঝরা কবিতা আবৃত্তি এবং ছন্দময় স্লোগানই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয়তাবাদী আদর্শের এই লড়াকু সৈনিক আক্ষেপ করে বলেন, জিয়ার আদর্শের প্রতি তার আপসহীন অবস্থান ও লড়াকু ভূমিকার কারণে তিনি বারবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি ১/১১ এর সময় জিয়া পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দির প্রতিবাদ এবং তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে মিছিল করার মতো ঘটনার জেরে তাকে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি ‘দেশনেত্রীর মুক্তি চাই’ এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ‘বাকরুদ্ধ জাতি’ শিরোনামে কবিতা ও পত্রিকায় কলাম লিখে কলম যুদ্ধ চালিয়ে যান।

২০১২ সালে তার আলোচিত গ্রন্থ ‘ডিজিটাল ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ প্রকাশিত হয়, যার মোড়ক উন্মোচন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই বছরের এপ্রিলে ইলিয়াস আলীকে গুমের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে রাজপথে ক্রিকেট খেলে তিনি এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেন। ক্ষুব্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর হুমকিতে ঘরছাড়া আরিফকে না পেয়ে পুলিশ তার ১৩ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজ ভাতিজা তাজদিককে গ্রেপ্তার করে অমানবিক নির্যাতন করে এবং দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় কারাবন্দি রাখে। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ করতে গেলে তাকে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তার শরীরের দুটি হাড় ভেঙে যায়।

পরবর্তীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক মামলায় আসামি হয়ে জীবন বাঁচাতে কৌশলে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে নির্বাসিত হন আরিফ। প্রাণে বাঁচতে নিজের গড়া একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফেলে তাকে সৌদি আরবে যেতে বাধ্য হতে হয়। এভাবেই শহীদ জিয়ার আদর্শ ও জিয়া পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে আরিফ ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়েন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় মসজিদে ফজরের নামাজে গুলি, দুই মুসল্লি আহত

ফ্যাসিবাদবিরোধী কবিতা ও কলাম লেখার দায়ে নির্যাতনের শিকার আরিফ উল্লাহ

আপডেট সময় : ০১:০২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার আরিফ উল্লাহ, যিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের একজন সৈনিক হিসেবে পরিচিত, তার সংগ্রামী জীবনে রয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, নির্বাসন ও প্রত্যাবর্তনের কাহিনি। তার ক্ষুরধার লেখনী, অগ্নিঝরা কবিতা আবৃত্তি এবং ছন্দময় স্লোগানই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয়তাবাদী আদর্শের এই লড়াকু সৈনিক আক্ষেপ করে বলেন, জিয়ার আদর্শের প্রতি তার আপসহীন অবস্থান ও লড়াকু ভূমিকার কারণে তিনি বারবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। এমনকি ১/১১ এর সময় জিয়া পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দির প্রতিবাদ এবং তারেক রহমানের মুক্তির দাবিতে মিছিল করার মতো ঘটনার জেরে তাকে বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি ‘দেশনেত্রীর মুক্তি চাই’ এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে ‘বাকরুদ্ধ জাতি’ শিরোনামে কবিতা ও পত্রিকায় কলাম লিখে কলম যুদ্ধ চালিয়ে যান।

২০১২ সালে তার আলোচিত গ্রন্থ ‘ডিজিটাল ভাইরাসে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ প্রকাশিত হয়, যার মোড়ক উন্মোচন করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই বছরের এপ্রিলে ইলিয়াস আলীকে গুমের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে রাজপথে ক্রিকেট খেলে তিনি এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেন। ক্ষুব্ধ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর হুমকিতে ঘরছাড়া আরিফকে না পেয়ে পুলিশ তার ১৩ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজ ভাতিজা তাজদিককে গ্রেপ্তার করে অমানবিক নির্যাতন করে এবং দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় কারাবন্দি রাখে। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি প্রতিরোধ করতে গেলে তাকে দোতলা থেকে নিচে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়, যার ফলে তার শরীরের দুটি হাড় ভেঙে যায়।

পরবর্তীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিস্ফোরক আইনের পৃথক মামলায় আসামি হয়ে জীবন বাঁচাতে কৌশলে দেশ ছেড়ে সৌদি আরবে নির্বাসিত হন আরিফ। প্রাণে বাঁচতে নিজের গড়া একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ফেলে তাকে সৌদি আরবে যেতে বাধ্য হতে হয়। এভাবেই শহীদ জিয়ার আদর্শ ও জিয়া পরিবারের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কারণে আরিফ ফ্যাসিবাদের রোষানলে পড়েন।