ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি হারাতে যাচ্ছে: ফয়জুল হাকিম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম বলেছেন, “সাম্রাজ্যবাদী ভারতের মদদে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরেরা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এসবকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রমশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি হারাতে চলেছে।”

মঙ্গলবার (২৩শে ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদিচী কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগের তদন্ত ও বিচার এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি কাজী ইকবাল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, মুক্তির মঞ্চের কর্মী হেমন্ত দাষ ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক রফিক আহমেদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং টিমের সদস্য সৌরভ রায়।

সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মী শরীফ ওসমান হাদিকে পতিত ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া ঘাতকেরা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। এরপর ১১ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকার ঘাতকদের হদিস করতে পারেনি।”

তিনি বলেন, “হাদির মৃত্যুর শোকাভিভূত পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে গত ১৮ ই ডিসেম্বর রাতে একদল দুর্বৃত্ত দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদিচী কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে। শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবিরকে। এই হামলার উদ্দেশ্য যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক ফ্যাসিবাদী হামলা তার জন্য কোনও গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না।”

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, “সমাজে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা এতোটা সংক্রামিত হয়েছে যে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে একদল দুর্বৃত্ত পিটিয়ে মারার পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা নিশ্চিত করেছে। আমরা মনে করি, দেশে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার সুগভীর ষড়যন্ত্রের সাথে এসব ঘটনা সম্পর্কিত। সাম্রাজ্যবাদী ভারতের মদদে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরেরা এসবের সাথে জড়িত। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন হাত-পা ছেড়ে বসে আছে। হত্যাকারী -হামলাকারীদের হদিস করতে পারছে না। আসলে সরকার ক্রমশ গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি হারাতে চলেছে।”

সমাবেশে বক্তারা সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেনীতে ব্যবসায়ীদের তীব্র বিরোধিতার মুখেও শুরু হলো তাঁত ও বস্ত্র মেলা

সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি হারাতে যাচ্ছে: ফয়জুল হাকিম

আপডেট সময় : ১১:১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সম্পাদক ফয়জুল হাকিম বলেছেন, “সাম্রাজ্যবাদী ভারতের মদদে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরেরা দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এসবকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্রমশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি হারাতে চলেছে।”

মঙ্গলবার (২৩শে ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদিচী কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগের তদন্ত ও বিচার এবং ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

ফয়জুল হাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাঙলাদেশ লেখক শিবিরের সভাপতি কাজী ইকবাল, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকার, মুক্তির মঞ্চের কর্মী হেমন্ত দাষ ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল ঢাকা অঞ্চলের সংগঠক রফিক আহমেদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং টিমের সদস্য সৌরভ রায়।

সভাপতির বক্তব্যে ফয়জুল হাকিম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মী শরীফ ওসমান হাদিকে পতিত ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার লেলিয়ে দেওয়া ঘাতকেরা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। এরপর ১১ দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকার ঘাতকদের হদিস করতে পারেনি।”

তিনি বলেন, “হাদির মৃত্যুর শোকাভিভূত পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে গত ১৮ ই ডিসেম্বর রাতে একদল দুর্বৃত্ত দৈনিক প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদিচী কার্যালয়ে হামলা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করেছে। শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবিরকে। এই হামলার উদ্দেশ্য যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এক ফ্যাসিবাদী হামলা তার জন্য কোনও গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না।”

ফয়জুল হাকিম আরও বলেন, “সমাজে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা এতোটা সংক্রামিত হয়েছে যে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে একদল দুর্বৃত্ত পিটিয়ে মারার পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা নিশ্চিত করেছে। আমরা মনে করি, দেশে অস্থিতিশীলতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসন্ন নির্বাচন বানচাল করার সুগভীর ষড়যন্ত্রের সাথে এসব ঘটনা সম্পর্কিত। সাম্রাজ্যবাদী ভারতের মদদে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরেরা এসবের সাথে জড়িত। অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেন হাত-পা ছেড়ে বসে আছে। হত্যাকারী -হামলাকারীদের হদিস করতে পারছে না। আসলে সরকার ক্রমশ গণঅভ্যুত্থানের নৈতিক ভিত্তি হারাতে চলেছে।”

সমাবেশে বক্তারা সরকারের কাছে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবী জানান। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।