বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অস্ত্রের মুখে লোটো শোরুম থেকে অপহরণের পর পরিচালক পিন্টু আকন্দকে (৩৭) হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মঙ্গলবার দুপুরে দুপচাঁচিয়া থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলাটি করেছেন।
এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- মাইক্রোবাসের চালক দুপচাঁচিয়ার উত্তর সাজাপুর গ্রামের সানোয়ার হোসেন (৪০) ও একই এলাকার মো. শাকিব (২৫)। নিহতের স্ত্রীর করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এর মধ্যে শাকিব মাইক্রোবাসটি ভাড়া করতে সহযোগিতা করেন। ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আসামি গ্রেফতারের নামে মাইক্রোবাসটি ভাড়া নিয়েছিলেন তারা।
মঙ্গলবার বিকালে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান ও দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অপহরণের দুই ঘণ্টা পর সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলার কুমারপুর এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত পিন্টু আকন্দ নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লোহাগাড়া গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়ার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খন্দকার মার্কেটে তার শ্যালকের লোটো শোরুমের পরিচালক ছিলেন। সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া সদরের ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্রের মুখে চার জন পিন্টু আকন্দকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই ঘণ্টা পর আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের কুমারপুরে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা মাইক্রোবাসে লাশ পাওয়া যায়। নাকেমুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত পিন্টু আকন্দের শ্যালক ও লোটো শোরুমের মালিক আদমদীঘির বশিকোড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবু জানান, পিন্টু খুব ভালো ছেলে ছিল। তার সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। কী কারণে ও কারা তাকে অপহরণের পর হত্যা করেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না তিনি। বলেন, ‘পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত করলে আমার ভগ্নিপতি পিন্টুকে অপহরণ ও হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
মাইক্রোবাসের মালিক মশিউর রহমান পান্না বলেন, ‘সোমবার বিকালে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ৫-৬ জন ব্যক্তি দুপচাঁচিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আমার মাইক্রোবাসটি ভাড়া নেন। রাজশাহীতে আসামি ধরতে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তারা। পরে শুনি এই ঘটনা।’
দুপচাঁচিয়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে পিন্টু আকন্দের মরদেহ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করছেন। এরপর মাইক্রোবাস চালকসহ দুজনকে গ্রেফতার দেখনো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে রিমান্ডে নেওয়া হবে। তবে এখনও অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে এসব ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তবে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।’
পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিটের দিকে দুপচাঁচিয়া সদরের লোটো আউটলেটের সামনে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এসে থামে। সেখান থেকে মুখোশ পরা চার জন নেমে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পিন্টু আকন্দকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তোলে। অপহরণকারীরা মাইক্রোবাস নিয়ে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে আদমদীঘি উপজেলার দিকে চলে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে আদমদীঘির কুমারপুরে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা মাইক্রোবাসে লাশ পায় পুলিশ।
রিপোর্টারের নাম 




















