বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে লোটো শোরুমের একটি শাখার পরিচালক পিন্টু আকন্দকে (৩৭) নাকেমুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। অপহরণের দুই ঘণ্টা পর সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলার কুমারপুর এলাকায় একটি মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত পিন্টু আকন্দ নওগাঁর রানীনগর উপজেলার লোহাগাড়া গ্রামের মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়ার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খন্দকার মার্কেটে তার ভগ্নিপতির লোটো শোরুমের পরিচালক ছিলেন। সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে দুপচাঁচিয়া সদরের ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অস্ত্রের মুখে চার জন পিন্টু আকন্দকে জোর করে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার দৃশ্য সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। দুই ঘণ্টা পর আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের কুমারপুরে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা মাইক্রোবাসে লাশ পাওয়া যায়। পরে মাইক্রোবাস জব্দ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চালকসহ তিন জনকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ থেকে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টা ৮ মিনিটের দিকে দুপচাঁচিয়া সদরের লোটো আউটলেটের সামনে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস এসে থামে। সেখান থেকে মুখোশ পরা চার জন নেমে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে পিন্টু আকন্দকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তোলে। অপহরণকারীরা মাইক্রোবাস নিয়ে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে আদমদীঘি উপজেলার দিকে চলে যায়। খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে আদমদীঘির কুমারপুরে রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা মাইক্রোবাসে লাশ পায় পুলিশ।
দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, ‘সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে পিন্টু আকন্দের লাশ বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। এটির চালক দুপচাঁচিয়ার উত্তর সাজাপুর গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে ছানোয়ার হোসেনসহ তিন জন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতা কিংবা টাকা লেনদেন নিয়ে বিরোধে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এরপর মাইক্রোবাস ও চালককে ফেলে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। আটক তিন জনকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এখনও হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নাকেমুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল। শ্বাস বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতাউর রহমান বলেন, ‘এখনও হত্যাকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।’
রিপোর্টারের নাম 




















