বছর শেষে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আবারও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে টেনে তুলতে গত ১৫ মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকার নিরলস চেষ্টা চালিয়ে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজস্ব আদায় আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সরকারের আয়ে টান পড়েছে, অথচ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অনুন্নয়ন ব্যয়। অন্যদিকে, উন্নয়ন বাজেটে ব্যাপক কাটছাঁট করেও ব্যয়ের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সহিংসতা বাড়লে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, অর্থনীতির ভিত বর্তমানে যথেষ্ট শক্তিশালী এবং বছর শেষে রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে না পারলে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। মূলত নির্বাচন কেন্দ্রিক অস্থিরতা কাটলে এবং একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গত ১৫ মাস ধরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে যে অচলাবস্থা চলছে, তা কেবল একটি সফল নির্বাচনের মাধ্যমেই কাটানো সম্ভব। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় রয়েছেন। তবে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়লে দেশ আবার থমকে দাঁড়াবে, যা অর্থনীতির জন্য হবে বিপর্যয়কর। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও একই মত দিয়ে বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরই সবকিছু নির্ভর করে। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা দীর্ঘায়িত হলে নির্বাচনি প্রক্রিয়া এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—উভয়ই মারাত্মক সংকটে পড়বে বলে ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























